প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রামে বাণিজ্যমেলায় উপচেপড়া ভিড়

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: নিজেদের ব্যস্ততা তেমন নেই। হাতে এখন অনেক সময়। কিন্তু সংসারের টুকিটাকি জিনিসের প্রয়োজন। বাচ্চারাও বেড়ানোর জন্য তৈরি। তাই ছুটে এলাম নগরের রফতানি ও বাণিজ্যমেলায়। কথাগুলো বলছিলেন পশ্চিম বাকলিয়া এলাকা থেকে আসা রেহেনা শামসুল। শুধু তিনি নন, হাজার হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত নগরীর হালিশহর আবাহনী মাঠে মাসব্যাপী বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রফতানি ও বাণিজ্যমেলা।

নানান ধরনের ক্রোকারিজ সামগ্রী, বাহারি রঙের কাপড়চোপড়, নিত্য ব্যবহার্য ক্ষুদ্র গৃহস্থালি জিনিস, শো-পিস, বাচ্চাদের খেলনাসহ প্রতিদিনের যাপিত জীবনের প্রয়োজনীয় নানান অনুষঙ্গ নিয়ে চলছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসের মাসব্যাপী বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রফতানি ও বাণিজ্যমেলা। মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে ২০০টি উৎপাদন-বিক্রয়-বিপণন-সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নানান পণ্যের পসরা নিয়ে সাজানো। আগত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের কেউ কিনছেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কেউবা দেখছেন পছন্দের ব্যবহার্য জিনিস। আর প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়-প্রদর্শনকর্মীা সমানতালে ব্যস্ত পণ্যের গুণাগুণ ও সুবিধা-অসুবিধা বয়ানে। প্রত্যাশা করছেন সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার আর ক্রিসমাস ডে’র বন্ধে নগর মানুষের ঢল আসবে এ মেলায়।

চট্টগ্রাম মহানগরের আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা তাহমিনা আহমদ আসেন মেলায়। তিনি জানান, নতুন বাসায় উঠবেন বলে গৃহ সাজানোর নানা উপকরণ পছন্দ হলে কিনে নেব বা অর্ডার করে যাব। শুধু তিনি নন, তার মতো আরও অনেকেই নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজনের জিনিসপত্র যাচাই-বাচাই করে হয়তো কিনে নিয়ে যাবেন বা অর্ডার করে যাবেন। হ্যামকো প্লাস্টিকের বিক্রয় কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘কম দামে ভালো মানের প্লাস্টিকের বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী পেতে গ্রাহক আমাদের এখানে আসেন। সাধারণের ভিড় চোখে পড়ার মতো। প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রানুসারে বিক্রি কম হলেও এ মেলা আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য সুনাম তৈরিতে সহযোগিতা করছে।’

প্রাণ-আরএফএল প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘এ মেলায় আমাদের পণ্য বিক্রি করার চেয়েও প্রদর্শন করার প্রয়োজন বেশি। আর কিছু কিছু তো বিক্রি করছিও। পছন্দ অনুসারে কাছের যে কোনো দোকানেই আমাদের পণ্য পাওয়া যায়।’

অধিকাংশ স্টলে বিক্রয় কর্মকর্তা ও বিক্রয়কর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম শহরের শেষ প্রান্তে মেলা অনুষ্ঠান, প্রচারের অভাব, শহরের বিভিন্ন স্থানে এসএমই বাণিজ্যমেলা, ফার্নিচারমেলা, আবাসনমেলা, পর্যটনমেলা ও বিজয়মেলার কারণে এ মেলা ভালোভাবে চট্টগ্রামবাসীর কাছে সাড়া ফেলতে পারেনি। ফলে প্রত্যাশানুসারে বিক্রিও করতে পারিনি। এছাড়া দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভালো জিনিস কিনতে পেরে অনেকটা খুশি।

ক্রেতা আকর্ষণে অনেক প্রতিষ্ঠান মেলা উপলক্ষে ২০-৫০ শতাংশ মূল্যছাড় দিয়েছে। তবে ছুটির দিনগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, জিডিপির পরিমাণ, রফতানি, রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতের অবদান দেশে-বিদেশে সমাদৃত। বাংলাদেশকে নি¤œ-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। এর লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, যৌক্তিক শুল্কহার নির্ধারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত এবং উৎপাদিত পণ্যের বিপণন, প্রচার-প্রসারে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এর মাধ্যমে বিদেশি পণ্যের পরিবর্তে দেশি পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারিত হবে। এর জন্য প্রতিবার এ মেলার আয়োজন করা হয়।

তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত বিআইটিইএফ মেলার এক লাখ ৭০ হাজার বর্গফুট জায়গায় মাসব্যাপী এই রফতানি ও বাণিজ্যমেলায় ব্র্যাক, বিকাশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, টিকে গ্রুপ, বিএসআরএম, কেডিএস গ্রুপ, সিলন চা, কিষোয়ান গ্রুপ, আরকে হোম টেক্সটাইল, ভারত প্যাভিলিয়ন, থাইল্যান্ড প্যাভিলিয়ন, আরএফএল প্লাস্টিক, কাপড় বিক্রির প্রতিষ্ঠান, ব্যাগ ও কসমেটিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান, রান্নাবান্নার প্রয়োজনীয় ক্রোকারিজ সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান, বাচ্চাদের খেলনা, ঘর সাজানোর শো-পিস বিক্রির প্রতিষ্ঠানসহ দুইশটি উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিষ্ঠান ক্রেতাসাধারণের জন্য আকর্ষণীয় মূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সুযোগ রেখেছে। ১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলছে। যা আগামী ১৫ জানুয়ারিতে শেষ হবে বলে জানা যায় আয়োজক কমিটি সূত্রে। এছাড়া মেলায় আগত দর্শনার্থী, অংশগ্রহণকারী এবং সাংবাদিকদের সুবিধার্থে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক একটি ইনফরমেশন বুথ ও মিডিয়া সেন্টার চালু থাকছে। শিশু-কিশোরদের খেলা-বিনোদনের জন্য আছে কিডস জোন।