খবর বাণিজ্য সংবাদ

চট্টগ্রামে বিজিএমইএ কভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: করোনায় আক্রান্ত পোশাকশিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের ও স্থানীয় অসহায় জনগণের চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে শ্রমিক অধ্যুষিত চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় বিজিএমইএ হাসপাতালটি কভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিজিএমইএ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সারা পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেছে। সবাই এ মহামারি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সংক্রমণ বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে কম। তিনি ৮০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানকারী পোশাকশিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে উল্লেখ করে চট্টগ্রামে করোনা মহামারি দুর্যোগ প্রতিরোধে বিজিএমইএ-সহ ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসায় তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে এক মাস আগের চেয়ে বর্তমানে সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাতীয় এ দুর্যোগে সংক্রমণ প্রতিরোধে বিজিএমইএ কভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্যিমন্ত্রী টিপু মুনশি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ সে কথা মনে রেখেই চট্টগ্রামে বিজিএমইএ কভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের জন্য তিনি বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি ও বিজিএমইএ’র এই মহতী উদ্যোগের সফলতায় চট্টগ্রামে কভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। তিনি এ উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে বিজিএমইএ কভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বিজিএমইএ’র সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিজিএমইএ কভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল চালু করার জন্য তিনি চট্টগ্রামের পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। ওই হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সহায়তা-সহ সুযোগ-সুবিধা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতালগুলোয় আক্রান্ত রোগীদের যদি নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সাপোর্ট প্রদান করা হয়, তাহলে ৯৫ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। তিনি বিআইটিআইডি’কে করোনা টেস্ট শনাক্তকরণ দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদনে বিজিএমইএ কর্তৃক একটি আরটি-পিসিআর অনুদান হিসেবে প্রদানের উদ্যোগ নেওয়ায় এবং পোশাকশিল্প শ্রমিক, কর্মচারী ও স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর করোনা চিকিৎসায় বিজিএমইএ কভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল চালু করার জন্য বিজিএমইএ’কে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ হাসপাতাল পরিচালনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..