প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রামে বিনিয়োগ নিবন্ধন বেড়েছে ৯৮১ কোটি টাকা

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশের প্রধানতম বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রাম। বন্দর সুবিধাসহ সব ধরনের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চয়তায় অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে বিনিয়োগ কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতেও ২০২১ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা ১২০টি প্রকল্পের বিনিয়োগ নিবন্ধন নিয়েছেন। এসব প্রকল্পের বিপরীতে বিনিয়োগ নিবন্ধনের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২২৭ কোটি টাকা; যা গত ২০২০ সালে ছিল মাত্র এক হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ নিবন্ধন বেড়েছে ৯৮১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সূত্র মতে, সদ্য বিদায়ী ২০২১ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্প, বাণিজ্য ও ট্রেডিং ব্যবসায় বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, শতভাগ বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ নিবন্ধনের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুরোটাই দেশীয় বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ আগের বছরে ছিল মাত্র এক হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালে ছিল পাঁচ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের জন্য ১২০টি প্রকল্পের বিনিয়োগ নিবন্ধন করান। এসব প্রকল্পের বিপরীতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ চার হাজার ৩৯৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ বিনিয়োগ নিবন্ধন করে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হকের মালিকানাধীন ডেলটা এলপিজি লিমিটেড। চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগ্রুপ সিকমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেলটা এলপিজি এ খাতে এক হাজার ৮৫২ কোটি বিনিয়োগ করছে। আর গত বছরের এপ্রিল মাসে শীর্ষ বিনিয়োগ নিবন্ধনে ছিল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকের মালিকানাধীন স্যালভো অয়েল লিমিটেড বিনিয়োগ নিবন্ধন নেয় ৪১৫ কোটি টাকা। একই সময়ে আরেক ব্যবসায়ী আনসারুল আলম চৌধুরী ইনহেরেন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড ইমপেক্স লিমিটেডের নামে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ নিবন্ধন নেন। একই মাসে আরেক ব্যবসায়ী শাহ মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ আকতারের মালিকানাধীন ডেল্টা অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের নামে ৩৮৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিবন্ধন নেয়া হয়। এরপর ব্যবসায়ী মামুন সালামের মালিকানাধীন সিনথেটিক রেজি প্রডাক্টস (প্রা.) লিমিটেডের বিপরীতে ১৩৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিবন্ধন নেয়া হয়। এরপর জিপিএইচ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের নামে ৯৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিবন্ধন নেয়া হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সচিব মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের শহর তো চট্টগ্রাম। বন্দর সুবিধা, শিল্প জমি ও সস্তা শ্রমের কারণে চট্টগ্রামের স্বাধীনতার আগে থেকে ভারী শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়। তবে মাঝে গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চট্টগ্রামের বিনিয়োগ দেশের অন্য জায়গায় চলে যায়। এখন সরকার অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আবারও চট্টগ্রামের বিনিয়োগ নিবন্ধন বাড়বে।

অন্যদিকে এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দীন আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘১০ বছর পর আমি আমার পাঁচটি কারখানায় গ্যাস সংযোগ পেয়েছি। কিন্তু এ ১০ বছর তো আমাদের অনেক কষ্ট করে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময়ে ব্যাংকের সুদ তো লাফিয়ে লাফিয়ে তিনগুণ পর্যন্ত হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে দেশের সবচেয়ে বড় ভোজ্যতেল রিফাইনারি চালু করতে পারছি না চলতি মূলধনের অভাবে। এ কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা তিন হাজার মেট্রিক টন। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি করার সুযোগসহ নীতিগত সহযোগিতা করলে ব্যাংকের মন্দ ঋণ কমবে। এতে বন্ধ কারখানাগুলো উৎপাদনে আসবে। পাশাপাশি লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হবে, যা দেশের জিডিপিতে ব্যাপক অবদান রাখবে।