প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রামে বিনিয়োগ নিবন্ধনে শীর্ষে বিসিআইসিসহ ১৫ প্রতিষ্ঠান

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশের প্রধানতম বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রাম। বন্দর সুবিধাসহ সব ধরনের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে এখানে। ফলে দিন দিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থানও। গত বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্প, বাণিজ্য ও ট্রেডিং ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাবনা ছিল। এর মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাবনা ছিল মোট প্রস্তাবনার ৬৬ শতাংশ। এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সূত্র মতে, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭৯টি প্রকল্পের বিপরীতে মোট বিনিয়োগ নিবন্ধন হয় ছয় হাজার ২৭৪ কোটি ৮৩ লাখ সাত হাজার টাকা। এর মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাবনা ছিল চার হাজার ১৪০ কোটি ১২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। যা মোট প্রস্তাবনার ৬৬ শতাংশ।
এর মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) প্রতিষ্ঠান ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড সার উৎপাদনে এক হাজার ৭৫৭ কোটি ৫৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এতে মোট কর্মসংস্থান হবে ৮১৬ জনের। আরেকটি প্রতিষ্ঠান টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড ৬৩১ কোটি ৭৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে কর্মসংস্থান হবে ৮৫০ জনের। সরকারি এ দুই সংস্থা সার উৎপাদনের বিসিয়োগ করছে এক হাজার ৩৮৯ কোটি ৩২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
আর বেসরকারি মালিকানাধীন চট্টগ্রামভিক্তিক সীকম গ্রুপের নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী এগ্রিকালচার অ্যান্ড হর্টিকালচার লিমিটেড খাদ্যসামগ্রী প্রক্রিয়াজাত করণ খাতে ৫২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। এতে কর্মসংস্থান হবে ২৬৫ জনের। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন নাসিরা সুলতানা। এ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিষ্ঠান রিভারভিউ টার্মিনাল লিমিটেড ভোজ্যতেল পরিশোধনাগার ও ট্যাংক টার্মিনালস নির্মাণে ৪৯৬ কোটি টাকা। এতে কর্মসংস্থান হবে ২১৩ জন। এ গ্রুপটি এক হাজার ২১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান মালিকানাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আল রাজি কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটিড হাইড্রোজেন পারঅক্সইড মেনুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনে ২৮২ কোটি ৭৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এছাড়া সাগরিকা বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া মিসেস রুবাইয়া নাহার ওয়াহেদ টিউব অ্যান্ড মেটাল প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড স্টিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং (রিকন্ডিশন ড্রাম) খাতে ৩৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এতে কর্মসংস্থান হবে ৩১ জনের। ব্যবসায়ী আরিফ আহমেদের মালিকানাধীন ইনফিনিয়া কেমিক্যালস লি. কেমিক্যাল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল খাতে ২৪৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর কর্মসংস্থান হবে ১৪৬ জন।
সীতাকুণ্ড ভাটিয়ারীতে জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লোকমানের মালিকানায় এসএল অটো রি-রোলিং মিলস্ লিমিটেড নামে স্টিল রি-রোলিং মিলস খাতে বিনিযোগ করবে ২২০ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ইস্পাত খাতের বৃহৎ শিল্পগ্রুপ কবির গ্রুপ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পে কেএসআরএম পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড নামে ২২০ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আছদগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন এলপিজি সিলিন্ডার ইন্ডাস্ট্রিজ (১২-৪৫ কেজি) উৎপাদনে বাদশা ফিশিং নেট অ্যান্ড রোপ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে ১২৬ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিযোগ নিবন্ধন নেয়।
বেসরকারি ব্যাংক এসআইবিএলের ভাইস-চেয়ারম্যান বেলাল আহমদের পারিবারিক ইউনিটেক্স গ্রুপ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার উৎপাদনে ১১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ নিবন্ধন নেয় ইউনিটেক্স সিলিন্ডার লিমিটেডের নামে। একই গ্রুপ ম্যানুফ্যাকচারিং পেট্রো কেমিক্যাল খাতের বিনিযোগের জন্য ইউনিটেক্স পেট্রোলিয়াম লিমিটেড নামে বিনিযোগ নিবন্ধন করায় ১০০ কোটি টাকা। এ দুই প্রতিষ্ঠানে ৬৫৪ জনের কর্মসংস্থান হবে। আগ্রাবাদ এলাকার সুলেখা ইব্রাহীম পোলট্রি হ্যাচারি শিল্পে ৭৩ কোটি ৯৩ লাখ সাত হাজার টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি ক্লাসিক প্রভিটা এগ্রো লিমিটেড নামে বিনিয়োগ নিবন্ধন নেন। মোট কর্মসংস্থান হবে ২১০ জনের। একই এলাকার ব্যবসায়ী আগ্রাবাদ এলাকার মতিয়াজ উদ্দিন প্রগতি স্টিলসের নামের স্টিল রি-রোলিং মিলস্ স্থাপনে ৬৩ কোটি টাকা। এতে কর্মসংস্থান
হবে ১৩০ জনের। স্থানীয় সংসদ সদস্য আফছারুল আমীন অ্যাংকোরেজ কন্টেইনার ডিপো লিমিটেড নামে ইনলেন্ড কনটেইনার ডিপো’ স্থাপনে ৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবনা নিবন্ধন করেন।
চট্টগ্রামের একাধিক ব্যবসায়ী শেয়ার বিজকে জানান, শিল্প-বাণিজ্যের জন্য আর্দশ স্থান চট্টগ্রাম হলেও জমির স্বপ্লতা ও অত্যাধিক জমির দাম, গ্যাস সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদসহ নানা কারণে থমকে গেছে চট্টগ্রামে শিল্প-বিনিয়োগ। ফলে বিনিয়োগকারীরা চট্টগ্রামের পরিবর্তে দেশের অন্যান্য জেলায় শিল্প স্থাপন করতে কিংবা আগ্রহী হচ্ছে। এতে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার পুরোটায় অবিকাশিত থেকে যাচ্ছে। তারা বলেন, বিদ্যামান বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারের গ্রহিত বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত সময়ের বাস্তবায়ন হলে অব্যশই এখানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ শতগুণ বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ, গত বছরের চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্প, বাণিজ্য ও ট্রেডিং ব্যবসায় বিনিয়োগ করার জন্য ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাবনা ছিল ছয় হাজার ৯৪ কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এতে কর্মসংস্থান ১৬ হাজার ৬৯৪ জনের।