সম্পাদকীয়

চট্টগ্রামে মানসম্মত গণপরিবহন চালু করুন

ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ছে না গণপরিবহন। বর্তমানে এ মহানগরীর জনসংখ্যা ৬০ লাখেরও বেশি। কিন্তু সেই অনুপাতে পর্যাপ্ত গণপরিবহন নেই। এত কমসংখ্যক গণপরিবহন ও অধিকসংখ্যক ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপে বন্দরনগরীর যানবাহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নাজুক হয়ে পড়েছে। নিদারুণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নগরবাসী। আধুনিক ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা না নেওয়ায় যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে নগরবাসীর। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদন ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে নেই মানসম্মত গণপরিবহন’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
খবরে জানা যায়, অর্ধশতাধিক রুটের মাত্র একটিতে ‘সিটিং সার্ভিস’ আছে। তবে যাত্রীর চাপে মাঝেমধ্যে সেটিও ‘লোকাল’ হয়ে যায়। তাই বাড়তি ভাড়া গুনেও গাদাগাদি করে পথ চলতে হয় যাত্রীদের। বাকি প্রায় সব রুটেই লক্কড়ঝক্কড় বাস। অনুমোদন না নিয়েও গণপরিবহন চলছে বলে তথ্য মিলেছে। এমনকি বিআরটিসির বাসও অপ্রতুল।
গণপরিবহনের অপ্রতুলতা প্রকট হয় অফিস সময়ে। দেশের সবচেয়ে বড় ইপিজেড সিইপিজেড ছাড়াও দুটি ইপিজেড, বিসিক ও শিল্পাঞ্চলগুলোয় কর্মরত রয়েছেন ১২ লক্ষাধিক শ্রমিক। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত গণপরিবহন। সিইপিজেড-বিসিকসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্প-কারখানার নিজস্ব পরিবহনও নেই। এ প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া করা বাসে শ্রমিকদের আনা-নেওয়া করে। অফিস শুরু ও ছুটির সময় গণপরিবহনের প্রায় ৭০ শতাংশ রিজার্ভ ভাড়ায় শ্রমিক পরিবহনে ব্যস্ত থাকে। এর সুযোগ নেয় অন্য গণপরিবহনগুলো, আদায় করা হয় গলাকাটা ভাড়া।
শহর এলাকার বাসে ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নিয়মও কেউ মানছে না। খেয়াল-খুশিমতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার কারণে প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাথও পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এহেন অরাজক পরিস্থিতি কারও কাম্য নয়। নগরবাসীর বিড়ম্বনা লাঘবে মহানগর পুলিশ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সাংবাদিকসহ পেশাজীবী নেতাদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
গণপরিবহন সংক্রান্ত নীতিমালা না থাকায় চট্টগ্রামের গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। আঞ্চলিক ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি) যাত্রীসাধারণ নয়, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থই সংরক্ষণ করে বলে অভিযোগ। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। সাধারণত নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় নৈরাজ্যের দায় সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় বিশেষ করে আরটিসি। দায় এড়াতে পারে না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও। আমরা আশা করি, নাগরিকদের দুর্ভোগ নিরসনে শিগগিরই সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ..