প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রামে রসুনে লোকসান গুনছেন আমদানিকারকরা

 

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: খাতুনগঞ্জে রসুনের পাইকারি দাম কমতির দিকে। আমদানি দামের ছয় টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। ফলে প্রতি কেজি রসুনে লোকসান হচ্ছে ছয় টাকা।

আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি টন দুই হাজার ১৭০ থেকে দুই হাজার ১৭৫ ডলারে। প্রতি ডলারের মূল্য ৭৮ টাকা ধরে প্রতি কেজি রসুনের মূল্য দাঁড়ায় ১৬৯ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ১৬৯ টাকা ৬৫ পয়সা। চট্টগ্রাম বন্দরে আসা পর্যন্ত এ খরচ পড়ছে। এরপর শুল্ক, গাড়ি ভাড়া, কুলি-মজুর, আড়তদারি খরচ বাবদ কেজিপ্রতি রসুনের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও ১২ থেকে ১৫ টাকা। ফলে কেজিপ্রতি রসুনের দাম পড়ে ১৮২-১৮৫ টাকা। কিন্তু পাইকারি বাজারে আমদানি করা চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭৫-১৭৮ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারে রসুনের দাম বেড়ে যাওয়ার সুফল পাচ্ছেন দেশের উৎপাদক ও মজুতদাররা। বর্তমানে পাইকারিতে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৩০-১৪০ টাকায়। খুচরায় তা লেনদেন হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকায়। যেখানে মৌসুমের শুরুতে রসুন প্রতি কেজি ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে খাতুনগঞ্জে রসুন আমদানিকারক মেসার্স আজমীর ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী এটিএম শামসুজোদ্দাহা বলেন, এ বাজারের সবাই লোকসানে আছে। কেননা প্রতি কনটেইনার (২২ টনে এক কনটেইনার) রসুন আমদানি করে চার-পাঁচ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য বিক্রি করে কখনও লোকসান, আবার কখনও লাভ করা যায়। তবে লাভের চেয়ে এ বছর লোকসানের পরিমাণই বেশি।

ক্ষতির কারণ প্রসঙ্গে আরেক রসুন ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন বলেন, এক মাস আগের কেনা ছিল। ধারণা ছিল রসুনের দাম বাড়বে। কিন্তু তা না বেড়ে উল্টো কমে যাওয়ায় কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকার ওপর লোকসান হচ্ছে। একই কথা জানালেন ওই বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশি রসুন মানভেদে খুচরা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০-১৬০ টাকায়, যা এক বছর আগে বিক্রি হয়েছিল ৬০-৯০ টাকা। এখন আমদানি করা রসুন প্রতি কেজি ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গত বছরের একই সময় এর দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে দেশি রসুনে দাম বেড়েছে শতকরা ১০০ শতাংশ এবং আমদানি করাগুলোয় ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দেশে বেশি রসুন আবাদ হয় নাটোর, রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুর জেলায়। রসুন আবাদ করে ভালো মুনাফা পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন এতে উৎসাহী হলেও দানা বড় হওয়ায় চীনা রসুন অনেকের কাছে বেশ পছন্দের।