সম্পাদকীয়

চট্টগ্রামে রাজস্ব ঘাটতির কারণ উদ্ঘাটন হোক

‘চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস: অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতে বিপর্যয়’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। দেশের রাজস্ব আহরণের বড় সংস্থা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। মোট রাজস্বের এক-পঞ্চমাংশ আহরণ হয় এখানে। কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দেশের বৃহৎ কাস্টম হাউসটি।

খবরে জানা যায়, চলতি অর্থবছর সেখানে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম তিন মাসে লক্ষ্য ছিল ১৪ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছর একই সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার মাত্র তিন দশমিক ৩২ শতাংশ ঋণাত্মক। অর্থাৎ চট্টগ্রাম কাস্টমসে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমে গেছে।

একটি দেশকে এগিয়ে নিতে রাজস্বের বিকল্প নেই। এটি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ উন্নয়নের সব সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীর যেমন অক্সিজেন দরকার, একটি মেধের উন্নয়নে রাজস্বের ভূমিকা তেমনই। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বিভিন্ন প্রকাশনা, বিজ্ঞপ্তিতে ‘উন্নয়নের অক্সিজেন রাজস্ব’ শব্দত্রয় মুদ্রিত থাকে। তাই যথানিয়মে রাজস্ব আহরণ যে সংস্থাটির প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব, সে কথা মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করি।

এর আগে আমরা জেনেছি, পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় বন্দর ব্যবহারকারীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে রাজস্ব আদায়ের গতিও স্তিমিত হতে পারে। লোকবল সংকট থাকলে আমদানি-রফতানি চালানের নথি যাচাই, চালানের নমুনা পরীক্ষা, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা ও ডেটাবেজের তথ্য যাচাইসহ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় কমতে পারে। তাই পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

কোনো চক্রের অসাধুতা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রভাব পড়ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরে অভিনব পন্থায় অবৈধভবে কনটেইনার খালাসের ঘটনা ঘটেছে এই বন্দরে। এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এমন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, পরে প্রমাণও হয়েছে। এখন কী কারণে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কমছে, তা খুঁজে বের করতে হবে এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..