Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 5:32 pm

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশ-শ্রমিক সংর্ঘষে চারজন নিহত

প্রকাশ: April 17, 2021 সময়- 02:05 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছেন। সকালে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিক্ষোভ থেকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-আহমদ রেজা (১৮), রনি হোসেন (২২), শুভ (২৪) ও মো. রাহাত (২৪)। বাঁশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী শেয়ার বিজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন পাওনা রয়েছে। সকালে পাওনা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকের মধ্যে উত্তোজনা দেখা দেয়; যা এক পর্যায়ে সংর্ঘষে রূপ নেয়। আর এ ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউর রহমান মজুমদার। এছাড়া আরো অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এতে উত্তোজিত শ্রমিকরা পাওয়ার প্ন্যাটের স্থাপনা ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়; যা দুপুর একটা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এদিকে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অপরদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া জানান, বাঁশখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্র পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী শেয়ার বিজকে বলেন, বেতন-ভাতার দাবিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাওয়ার প্ল্যান্টের কিছু গাড়ি ও স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরে আরো বিস্তারিত বলতে পারব।

উল্লেখ যে, ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পরিবেশ বিপর্যয় হবে ও বসতভিটা হারানোর শঙ্কা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা এ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। একই বছরের চার এপ্রিল এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ছিল। এ সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়ে ছিল। এ ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ১৯ জন আহত হয়েছেন।