সম্পাদকীয়

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নিন

দেশের মোট রাজস্বের পাঁচভাগের একভাগ আহরণ করা হয় চট্টগ্রাম কাস্টমসে। তবুও অর্ধেক জনবলে জোড়াতালি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সঠিক নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হচ্ছে না। এমনকি বহিরাগতদের দিয়ে অনেক কাজ করিয়ে নেওয়ায় কাস্টমসকে ঘিরে নানা দুষ্টচক্রের উত্থান ঘটে। সংকটটি স্বল্প সময়ের নয়। বরং দীর্ঘদিনের এই বেহাল দশা উত্তরণের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এখন অচিরেই এই সংকট যদি সমাধান করা না হয়, তবে আমদানি পণ্য ছাড়করণে ও রফতানি পণ্যের জাহাজীকরণে সময়ক্ষেপণের ফলে দেশের ২০৩০ সালের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিনির্মাণে বিপত্তি সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমান অর্থমন্ত্রী তার অর্থবাজেটে কর না বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেন। মোট বাজেটের ৮১ শতাংশ রাজস্ব খাত থেকে আহরণের আশা করা হয়েছে। এবারের রাজস্ব আদায়ের নতুন ২০টি উৎস নির্ধারণের মধ্যে রয়েছে অর্থপাচার রোধ। অথচ লোকবলের সংকটে চট্টগ্রাম কাস্টমস স্টেশনে চোরাচালান, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন কাজে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া আমাদের সামনে রয়েছে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশকে বিশ্বের ২৮তম অর্থনীতির দেশে উপনীতি করানোর লক্ষ্যমাত্রা। অথচ দেখা যাচ্ছে এবারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্বিক রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। দেখা গেছে, বেশি শুল্ক আহরণযোগ্য পণ্যের যথেষ্ট সরবরাহ বাজারে রয়েছে কিন্তু কাস্টমসে এসব পণ্যের আমদানি কম দেখা যাচ্ছে। এভাবে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে কিন্তু লোকবলের অভাবে কাক্সিক্ষত নজরদারি চালানো যাচ্ছে না। এমনকি এই চট্টগ্রাম কাস্টমসে এক অবসরপ্রাপ্ত শুল্ক কর্মকর্তার কার্ড ব্যবহার করেও পণ্য চালান হয়েছে কিন্তু রোধ করা সম্ভব হয়নি। গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজের এ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দেখা যায়, এখানে প্রথম শ্রেণির ১৭টি পদের মধ্যে ছয়টিতে কোনো লোকবল নিয়োগ দেয়নি এনবিআর। দেশের এই বৃহৎ শুল্ক স্টেশনে লোকবল নিয়োগের এক বিশাল অনুমোদিত বহর রয়েছে। স্টেশনটির কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদিত লোকবল সংখ্যাকে কাক্সিক্ষত বলা যাবে। কিন্তু সে সংখ্যক পদ এখানে সৃষ্টি হয়নি, অধিকন্তু সৃষ্ট পদের প্রায় অর্ধেক পদই এখানে শূন্য রয়েছে। যাহোক, এবারের বাজেটের রাজস্বকেন্দ্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চোরাচালান ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে কাক্সিক্ষত জনবল নিয়োগ দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ এই সংকট নিরসনে কার্যকরী উদ্যোগ নেবে বলে আশা রাখি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..