দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব ঘাটতি ৯৩২১ কোটি টাকা

২০১৯-২০ অর্থবছরের ছয় মাস

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান দ্বার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। ২০১৯-২০ অর্থবছরে হাউসটির মাধ্যমে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। আর অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৩০ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব আহরণ করে ২১ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ বা ৯ হাজার ৩২১ কোটি টাকা কম।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক হয়ে যায়, যদিও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জুলাই-ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধির হার ছিল পাঁচ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর চলতি বছর ছয় মাসে প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ ঋণাত্মক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস ছাড়া বাকি পাঁচ মাসেই আদায়ের হার সন্তোষজনক ছিল না।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে রাজস্ব আহরণ শুরু করলেও পরের মাসেই (আগস্টে) প্রবৃদ্ধির হার ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ ঋণাত্মক হয়ে যায়। অর্থাৎ আগস্ট মাসে পাঁচ হাজার ১১৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও রাজস্ব আহরণ হয়েছে দুই হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, যা টার্গেট থেকে ৪২ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। আবার প্রথম দুই মাস একসঙ্গে হিসাব করলে বিগত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার এক দশমিক ৭৯ শতাংশ ঋণাত্মক হয়।

পরের কোনো মাসেই প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক অবস্থার কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর ছিল তিন দশমিক ৩২ শতাংশ ঋণাত্মক, অক্টোবরে এক দশমিক ২৩ শতাংশ ঋণাত্মক ও নভেম্বরে দুই দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণাত্মক। এদিকে ডিসেম্বরে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। এতে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম আদায় হয়।

এছাড়া নভেম্বরে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪০ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম ছিল। অক্টোবরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা; কিন্তু আদায় হয়েছে তিন হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম আদায় হয়েছে। সেপ্টেম্বরে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার হাজার ২৯৬ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে তিন হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা থেকে এ হার ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কম।

অন্যদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২১ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ২১ হাজার ১৫৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যদিও আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ৪৭৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বিশেষ করে কমার্শিয়াল আমদানি কমেছে। এছাড়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল আমদানি মারাত্মক পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। সিকেডি অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল আমদানি না হয়ে বর্তমানে মোটরসাইকেলের আলাদা পার্টস আমদানি হচ্ছে। এতে রাজস্বের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কারণ মোটরসাইকেল আমদানিতে ১১০ শতাংশের ওপরে শুল্ক এলেও পার্টস আমদানিতে ৩৫ শতাংশের মতো শুল্ক আসে। তাছাড়া শূন্য শুল্কের পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যেমন মেগা প্রকল্পের পণ্য। একই সঙ্গে ভোজ্যতেল আমদানি কমেছে। নতুন ভ্যাট আইনের বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় আমদানিকারকরা গত অর্থবছর তুলনায় অনেক কম তেল আমদানি করেছেন। পাশাপাশি তেল আমদানিকারকরা আগের মতো পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল আমদানি না করে পামের দানা আমদানি করছেন, যাতে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপ নেই। এছাড়া গত বছরের তুলনায় জ্বালানি তেলও আমদানি কমেছে। সব মিলিয়ে রাজস্ব আহরণ অনেক কমে গেছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..