সম্পাদকীয়

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবস্থা নিন

তিনটি সমুদ্রবন্দর থাকলেও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা আমদানি-রফতানির ৮০ শতাংশ এখনও সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। কিন্তু এ বন্দরের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বন্দরে জাহাজ ভিড়তে এবং পণ্য খালাস করতে বেশি সময় লাগে। কাস্টমসের ঝামেলাও অনেক ও ধীর গতিসম্পন্ন। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর: খালাসের অপেক্ষায় ৯৬ জাহাজ’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। এতে বলা হয়েছে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত বন্দরের জলসীমায় মোট অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা ছিল ৯৬ এবং কনটেইনার জমেছিল ৪২ হাজার ২৪০টি। এতে একদিকে কমেছে বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা, অন্যদিকে বন্দর ব্যবহারকারীদের বেড়েছে ভোগান্তি ও আর্থিক লোকসান।
আমদানিপণ্যের চালান সময়মতো ডেলিভারি না হলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। সেই সঙ্গে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্প উৎপাদনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে রফতানিতেও ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে পোশাকশিল্পের পণ্য জাহাজীকরণ বিঘ্নিত হলে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিলও করতে পারে।
জেটি সংকট থাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি জাহাজকে একসঙ্গে ভেড়ানো যায় না। ফলে বহির্নোঙরে দীর্ঘ সময় অলস বসে থাকতে হয় আমদানি পণ্যবোঝাই অনেক জাহাজকে। আবার বহির্নোঙরে পণ্য খালাসেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই জেটি সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
খোলা পণ্যের একটি বড় অংশ বহির্নোঙরে লাইটারের (ছোট আকারের জাহাজ) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একটি মাদার ভেসেলকে (সমুদ্রগামী বড় আকারের জাহাজ) একদিন অতিরিক্ত সময় অবস্থানের জন্য প্রায় ১০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয়। জাহাজ মালিক ও এজেন্টরা এ অর্থ নেন আমদানিকারকদের থেকে। এতে পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। আমদানিকারকরা নিজের পকেট থেকে ওই টাকা দেন না। পণ্যের মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নেন। তাই ওই বাড়তি অর্থ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপে। বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ মাদার ভেসেলের সংখ্যা বেড়ে গেলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় লাইটার জাহাজ একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। এ অবস্থায় জট ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পণ্য খালাস সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত লোকবলের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান বন্দর। জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এর অবদান ও গুরুত্ব বিবেচনা করে এটির সক্ষমতা বাড়তে হবে। পরিচালন প্রক্রিয়ার কোনো দুর্বলতায় বন্দরের অদক্ষতার পরিণামে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে বন্দরগুলো অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ। এ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হতে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক সামর্থ্য আশু বৃদ্ধি অপরিহার্য। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনার জড়িত সবার দায়িত্বশীল ভূমিকাই কাম্য।

সর্বশেষ..