চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের কর্মসূচি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। গত তিন দিন ধরে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করলেও দাবি আদায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গতকাল সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তাদের ন্যায্য দাবি মানার পরিবর্তে উল্টো ১৬ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে বদলি করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজারা চুক্তি বাতিলের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা। একইসঙ্গে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বন্দর চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামান এবং পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের চাকরিচ্যুতি ও তাদের আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
এনসিটি নিয়ে আন্দোলন করা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আজ টানা তৃতীয় দিন চলছে আমাদের ধর্মঘট। বন্দর কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে বল প্রয়োগ করে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে। অথচ আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। আমরা অবিলম্বে এ অন্যায় বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা বন্দরে ধর্মঘটের ঘোষণা দিচ্ছি। বিডার আশিক চৌধুরী, বন্দর চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামান ও পরিচালক ওমর ফারুকের অপসারণ দাবি করছি। তাদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানাচ্ছি।’
এর আগে রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক দুই আদেশে আরও ১২ কর্মচারীকে বদলি করেছিল। ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের ‘চিফ পারসোনেল অফিসার এসব আদেশে সই করেন। আদেশে বদলিকৃত কর্মচারীদের সোমবার দিনের প্রথম ভাগে বদলিকৃত জায়গায় যোগদান করতে বলা হয়েছে। এনসিটি ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর পর গত শনিবারও বন্দর কর্তৃপক্ষ পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করে আন্দোলনকারী চার কর্মচারীকে। এ নিয়ে মোট ১৬ জনকে বদলি করা হয়। কিন্তু বদলিকৃতদের কেউই নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। উল্টো আন্দোলনে সক্রিয় আছেন তারা।
রোববারের দুই আদেশের একটিতে সাতজনকে বদলি করা হয়। তারা হলেনÑ পরিবহন বিভাগের উচ্চ
বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফিউদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টোনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিজি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া।
আরেক আদেশে পরিবহন দপ্তরের উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, মাতারবাড়ি উন্নয়ন প্রকল্পের স্টেনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল এবং যান্ত্রিক বিভাগের খালাসি মো. রাব্বানীকে বদলি করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তাদের ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়েছে। তাদের পদ একই থাকবে।
‘জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজে’ বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বদলি করেছে বলে আদেশে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বদলির বিষয়টা হচ্ছে একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা প্রশাসনিক কারণে, গতিশীলতার কারণে, দাপ্তরিক কারণে যে কোনো সময় যে কাউকে বদলি করা যায়। আর এটা সেটারই একটা অংশ।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডে’র কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে দুদিনের কর্মবিরতি শুরু হয়। গতকাল সোমবারও সকালে কর্মবিরতি শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post