শেষ পাতা

চট্টগ্রাম বন্দর অফডকে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ

প্রাইম মুভার চালক-হেলপারদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: প্রতিদিন প্রাইম মুভারগুলোর মাধ্যমে ১৮টি বেসরকারি অফডক থেকে প্রায় এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০টি রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার বন্দরে পাঠানো হয়। তবে গতকাল চালক-হেলপারদের কর্মবিরতিতে কোনো কনটেইনার বন্দরে আসতে ও ছাড়তে পারেনি। নিয়োগপত্র প্রদান ও শ্রম আইন অনুয়ায়ী, মজুরির দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (অফডক) প্রাইম মুভার ট্রেলারের চালক-হেলপাররা আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পোশাক ব্যবসায়ীসহ আমদানি ও রপ্তানিকারকরা।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল থেকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করায় চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি অফডক বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকসহ শিল্পকারখানার কনটেইনার পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এতে নির্দিষ্ট সময়ে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণ এবং আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। এসব ডিপোতে প্রাইম মুভারে তিন হাজার ২০০ চালক-হেলপার কর্মরত আছেন।

গত ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ২৮২ জন চালককে ভারী লাইসেন্স প্রদান এবং প্রাইম মুভার চালক ও শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেলার শ্রমিক ইউনিয়ন। এরপর ৩০ জানুয়ারি সকালে বিকডা’র সঙ্গে বৈঠক শেষে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে ইউনিয়ন।

বিকডা’র মহাসচিব মো. রুহুল আমিন সিকদার শেয়ার বিজকে বলেন, ‘প্রাইম মুভার চালক-হেলপারদের কর্মবিরতিতে ১৮টি ডিপো বুধবার সকাল থেকে বন্ধ আছে। এতে কনটেইনার মুভমেন্ট বন্ধ রয়েছে। নিয়োগপত্র প্রদানের দাবিতে তারা কর্মবিরতি করছে। আমরা নিয়োগপত্র দিতে রাজি। কিন্তু তারা এর বাইরে বেতন বাড়ানোর দাবি করছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও আমরা দিতে পারিনি। সময় চেয়েছিলাম, তারা সময় দিতে রাজি নয়। আজ কোনো ঘোষণা ছাড়াই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।’

চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেলার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী অফডকে প্রাইম মুভারের চালক ও হেলপাররা কর্মবিরতি পালন করছে। আমরা বারবার বলছি, বর্তমান আইনে যে গেজেট হয়েছে, সেই গেজেট অনুযায়ী আমরা মজুরি চাই। সর্বনি¤œ মজুরি প্রদানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২০০৬ সালের যে বিজ্ঞপ্তি আছে। চালকদের মজুরি বর্তমানে দিচ্ছে ছয় হাজার টাকা। গেজেট অনুযায়ী, আমরা পাব ১১ হাজার ২০০ টাকা। আর হেলপারদের দিচ্ছে তিন হাজার টাকা, গেজেট অনুযায়ী পাবে আট হাজার টাকা। আমরা শ্রম আইনানুযায়ী মজুরি চাই।’ পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন কারণে পোশাকশিল্পে সংকট চলছে। এর মধ্যে শ্রমিক সন্তোষে পোশাকশিল্পের আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..