দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিন দিনে ছাড় হলো ১৯৯ টন পেঁয়াজ

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: রপ্তানি বন্ধের পর ভারতের বদলে বিকল্প ১৩ দেশ থেকে পৌনে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেন দেশের আমদানিকারকরা। চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে গত বুধবার পর্যন্ত এক লাখ ৫১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র দেওয়া হয়।

দেশে মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজের সংকট কাটতে শুরু করেছে। প্রতিবেশী ভারত রপ্তানি বন্ধের ১৬ দিন পর বিকল্প দেশ থেকে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আসতে শুরু করছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে এরইমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ২৫৮ টন। এরইমধ্যে গত তিন দিনে ১৯৯ টন পেঁয়াজ ছাড় করে নিয়ে গেলেন আমদানিকারকরা। সমুদ্রপথে আরও কয়েক হাজার টন পেঁয়াজ আসছে। যদিও এ সময়ে বিকল্প ১৩ দেশ থেকে পৌনে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) নিয়েছেন দেশের আমদানিকারকরা। ফলে দেশের পেঁয়াজের সংকট ও দাম কমবে।

উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ দপ্তরের হিসাবে, রপ্তানি বন্ধের পর ভারতের বদলে বিকল্প ১৩ দেশ থেকে পৌনে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) নিয়েছেন দেশের আমদানিকারকরা। চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে গত বুধবার পর্যন্ত এক লাখ ৫১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। এসব অনুমতির বিপরীতে গত সোমবার মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫৮ টন পেঁয়াজ আসে। ওইদিনই প্রথম চালানে বন্দর থেকে ৫৪ টন ছাড় নেওয়া হয়। সেগুলো এরই মধ্যে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। দ্বিতীয় চালানে পাকিস্তান থেকে আনা ১৬ টন পেঁয়াজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় করা হয়। সেগুলো এনেছে চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান গ্রিন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। আর বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামানো বাকি পেঁয়াজও ধাপে ধাপে ছাড় নেয় আমদানিকারকরা।

এদিকে প্রথম চালান খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে পৌঁছার বিষয় নিশ্চিত করেছেন খাতুনগঞ্জ এলাকার একাধিক পেঁয়াজের আড়তদার। এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জ কাঁচা পণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, মঙ্গলবার সকালে ২৭ টন পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে, বাকি ২৭ টন চট্টগ্রামের অন্য জেলায় সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। বুধবার আরও পেঁয়াজ আসছে। তবে এখনকার পেঁয়াজ ভারতের পেঁয়াজের তুলনায় ফ্রেশ থাকায় মুহূর্তেই বিক্রি শেষ হয়েছে। দাম ছিল কেজি ৭০ টাকা। বর্তমানে ভারতের পেঁয়াজও মানভেদে ৬৪ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে বলে আশা করা যায়।

খাতুনগঞ্জ এলাকার মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বলেন, ভারতের বিকল্প দেশ মিয়ানমার হতে পারে। কিন্তু সরাসরি জাহাজ চলাচল না থাকায় আমরা কাছের দেশটি থেকে সুবিধা গ্রহণ করতে পারছি না। আমাদের চালানটি সিঙ্গাপুর হয়ে ঘুরে আসেছে। এতে সময় লাগছে বেশি ও ব্যয় বাড়ছে। এতে অতিরিক্ত ১৩-১৫ দিন লাগছে। এসব নিয়ে আমাদের নীতি-নির্ধারকদের আরও চিন্তা করতে হবে।

খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের বড় আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, অতীতের সংকটের সময়ও আমরা পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছি। এর জন্য প্রাথমিকভাবে হল্যান্ড ও মিসর থেকে পাঁচ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করছি। এরমধ্যে আমাদের এলসির বিপরীতে মিশরে পেঁয়াজের কনটেইনার জাহাজে লোড হয়েছে। আসতে যে ক’দিন সময় লাগে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, গত বুধবার পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত সজিব এন্টারপ্রাইজের ২৯ টন পেঁয়াজের ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়। আর সোমবার ও মঙ্গলবার মিলে মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আসা ১৭০ টন পেঁয়াজের ছাড়পত্র ইস্যু করেছি। এ নিয়ে গত তিন দিনে মোট ১৯৯ টন ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এছাড়া, এ কেন্দ্র থেকে এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ৩৩৯টি অনুমতিপত্র (আইপি) নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এসব পেঁয়াজ চীন, মিসর, তুরস্ক, মিয়ানমার, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও পাকিস্তান থেকে এসব পেঁয়াজ আনবেন তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে পেঁয়াজভর্তি কনটেইনার খালাস হচ্ছে। দ্রুত খালাস করার নিদের্শনা আছে। আর কিছু ছাড়ের অপেক্ষায় আছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..