দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চট্টগ্রাম বিভাগে বেড়েছে অবৈধ জমি দখল

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম:বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগে অবৈধ জমি দখল বেড়েছে। গত দুবছর কাগজে-কলমে বেদখল জমি বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৩৬ একর। যদিও বেদখলকৃত জমির প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যমতে, ২০১৬ সালের শেষদিকে করা প্রতিবেদনে বেদখল জমির পরিমাণ ছিল ১৬৯ দশমিক ৮২ একর। ২০১৯ সাল শেষে তা দাঁড়িয়েছে ২১৫ দশমিক ১৮ একরে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের কথা বললেও বেদখলের পরিমাণ কমছে না। 

জানা গেছে, অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারে অনিয়মিত কিছু উচ্ছেদ হলেও অনেক সময় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের চিঠিতে বন্ধ হয়ে যায় অভিযান। একই সঙ্গে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা পেশিশক্তি দেখিয়ে দখল করছে রেলের জায়গা। আবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন রেলের ভেতরে থাকা অর্থলোভী কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ফলে সরকার রেলওয়ের জায়গা উদ্ধারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিলেও কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সূত্রমতে, চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখানবাজার এলাকার মতিঝরনায় রেলওয়ের ২৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের এক চিঠিতে (ডিমান্ড অব অর্ডার) তা আটকে যায়। তারপর নির্ধারিত সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সংসদ সদস্য গত ২৩ নভেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক বরাবর উচ্ছেদ অভিযান স্থগিতের জন্য ওই ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ইসরাত রেজা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নিয়মিতই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উদ্ধার করা হচ্ছে বেদখখলি জমি। ২০১৯ সালে ১৬৫ দশমিক ৯৭ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১০৬ দশমিক ৮৩ একর এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৯ দশমিক ১৪ একর। এসব জমি ৪৩ হাজার ৫৮৩ জন মিলে দখল করেছিলেন। তাতে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল ২৪ হাজার ৬১৩টি, যা ১০১ কর্মসূচির মধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রেলের অবৈধ দখলীয় ভূমির পরিমাণ ৬১৯ দশমিক ৬৭ একর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০৪ দশমিক ৪৯ একর ও চট্টগ্রামে ২১৫ দশমিক ১৮ একর। এসব জমির মধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলে দখল করেছে ৪৫৫ দশমিক ৫৯ একর এবং বিভিন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তি মিলে দখল করেছেন ১৬৪ একর। তবে ২০১৬ সালের অক্টোবরে করা প্রতিবেদনে অবৈধ দখলীয় জমি ছিল ৮৫৪ দশমিক ২৬ একর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৮৪ দশমিক ৪৪ একর এবং চট্টগ্রামে ১৬৯ দশমিক ৮২ একর। কিন্তু দুবছর শেষে ঢাকা বিভাগে দখলি ভূমির পরিমাণ কমলেও চট্টগ্রাম বিভাগে কমেনি। উল্টো ৪৫ দশমিক ৩৬ একর বেড়েছে। দুবছরে ঢাকা বিভাগে ২৮০ একর ভূমি উদ্ধার হয়েছে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে সর্বশেষ জমিজমার হালনাগাদ জরিপ অনুযায়ী মোট সম্পত্তি রয়েছে (বিক্রীত জমি বাদে) ২৪ হাজার ৪৪০ দশমিক ৯৩ একর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছে ১৭ হাজার ১৬৯ দশমিক ২০ একর ও চট্টগ্রাম বিভাগে সাত হাজার ২৭১ দশমিক ৭৩ একর। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অপারেশন কাজে ব্যবহার হয় মোট ১৫ হাজার ৩১ দশমিক ৩১ একর। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে অপারেশন কাজে ব্যবহার হয় ১০ হাজার ৬৩৫ দশমিক ৩১২ একর ও চট্টগ্রাম বিভাগে চার হাজার ৩৯৬ একর জমি।

অপারেশন কাজে ব্যবহƒত ছাড়া অবশিষ্ট জমির পরিমাণ ৯ হাজার ৪০৯ দশমিক ৬২ একর। ঢাকা বিভাগে অবশিষ্ট জমির পরিমাণ ছয় হাজার ৫৩৩ দশমিক ৮৯ একর এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুই হাজার ৮৭৫ দশমিক ৭৩ একর। লাইসেন্সকৃত জমির পরিমাণ চার হাজার ৯৭১ দশমিক ৪৭ একর। ঢাকা বিভাগে তিন হাজার ৩৯৩ দশমিক ১০ একর এবং চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ৫৭৮ দশমিক ৩৭ একর।

বাণিজ্যিক ভূমি রয়েছে ৪৮৭ দশমিক ৯৩ একর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৩ দশমিক ৩১ একর ও চট্টগ্রামে ৪৫৪ দশমিক ৬২ একর। কৃষিকাজে ইজারা দেওয়া হয়েছে চার হাজার ৮৪ দশমিক ১৬ একর। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিন হাজার ১৭৫ দশমিক ৬৯ একর ও চট্টগ্রামে ৯০৮ দশমিক ৪৭ একর। এছাড়া মৎস্য খাতে ব্যবহার হয় ৩৪২ দশমিক ৮৭ একর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭২ দশমিক ৫৪ একর ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭০ দশমিক ৩৩ একর। নার্সারি খাতে শূন্য দশমিক ৭২ একর, যা চট্টগ্রাম বিভাগে। এছাড়া সিএনজি স্টেশন নির্মাণ ব্যবহার হয় ১২ দশমিক ৪৭ একর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হয় ৪১ দশমিক ৩১ একর। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিন দশমিক ৬৮ একর ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ দশমিক ৬৪ একর।

এছাড়া অব্যবহƒত ভূমি রয়েছে তিন হাজার ৫৮৩ দশমিক ৮৯ একর। তার মধ্যে ঢাকায় দুই হাজার ৪৫৫ দশমিক ৮০ একর ও চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ১৩০ একর। আর বিক্রীত জমির পরিমাণ ৩৬৫ দশমিক ৮৯ একর।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..