দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে গৃহকর আদায় ২৫ শতাংশ!

অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস

মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম: কর্মকর্তাদের অনিয়মের শাস্তি প্রদান ও কাজে গতি আনতে বদলিসহ নানা উদ্যোগের পরও বাড়ছে না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) গৃহকর আদায়ের হার। চসিকের রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স)। গৃহকর আদায়ের ওপর চসিকের আর্থিক সক্ষমতা নির্ভর করে। রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় ধরনের বদলিতেও গৃহকরের লক্ষ্যমাত্রার অর্জন করতে পারছে না চসিক। চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) গৃহকর আদায়ে পিছিয়ে পড়েছে সংস্থাটি। অর্থবছরের প্রথম অর্ধেকে মোট লক্ষ্যের বিপরীতে গৃহকর আদায়ের হার মাত্র ২৫ শতাংশ। ফলে প্রথম ছয় মাসে গৃহকরের ঘাটতি প্রায় ৮৬ কোটি টাকা। যদিও গৃহকর আদায়ের হার কমের পেছনে মন্দা দাবিকে (লক্ষ্যমাত্রা) দুষছে চসিক।

চসিকের রাজস্ব বিভাগের সূত্র মতে, সরকারি এক হাজার ৫১৫টি ও বেসরকারি এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১টি মিলে মোট এক লাখ ৯০ হাজার ৫৮৬টি হোল্ডিং থেকে গৃহকর আদায় করে চসিক। এসব হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে চসিকের মোট গৃহকরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) গৃহকর আদায় হয়েছে ৮৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৬ টাকা, যা মোট দাবির ২৫ দশমিক ১৩ শতাংশ মাত্র। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম বন্দরই পরিশোধ করেছে ৩৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৬ কোটি ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬২০ টাকা।

জানা যায়, চসিক গৃহকর আদায়ে প্রতি মাসে ২৮ কোটি ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৬ টাকা মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আদায়ে হয়েছে মাত্র পাঁচ কোটি ৫৮ লাখ ৮৯ হাজার ২৫০ টাকা, যা মাসিক লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগস্টে আদায় হয়েছে চার কোটি ৯৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭২২ টাকা, যা মোট মাসিক লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম বন্দরের ৩৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকাসহ সেপ্টেম্বরে আদায় হয়েছে ৫১ কোটি ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩০ টাকা, যা মোট মাসিক লক্ষ্যমাত্রার ১৭৭ শতাংশ। অক্টোবরে আদায় হয়েছে পাঁচ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৯২৯ টাকা, যা মোট মাসিক লক্ষ্যের ২০ দশমিক ১৬ শতাংশ। নভেম্বরে আদায় হয়েছে ছয় কোটি ৩০ লাখ ৩১ হাজার ২৯১ টাকা, যা মোট মাসিক লক্ষ্যমাত্রার ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ১৫ লাখ এক হাজার ৪৫৩ টাকা, যা মোট মাসিক লক্ষ্যমাত্রার ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এ ব্যাপারে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, আমাদের কিছু মন্দা দাবি (লক্ষ্যমাত্রা) আছে। যেগুলো আমরা বছরের পর বছর চেষ্টা করেও আদায় করতে পারছি না। এর মধ্যে রেলওয়ে এবং বেসরকারিভাবে আট নম্বর সার্কেলেসহ প্রত্যেকটা সার্কেলে অনেক মন্দা দাবি। মন্দা দাবি বাদ দিতে না পারার কারণে প্রতি বছর গৃহকরের দাবির পরিমাণ বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে গত ১ সেপ্টেম্বর চসিকের আটটি রাজস্ব সার্কেলের ২২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে বদলি করা হয়। এ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নগরবাসীর করের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হলেও অনেকে রয়ে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম স্বাক্ষরিত বদলির অফিস আদেশে বলা হয়, ‘সিটি করপোরেশনের রাজস্ব প্রশাসনের কাজে গতি আনয়নের স্বার্থে দায়িত্ব পুনঃবন্টন করা হলো।’ ওই সময় আট রাজস্ব সার্কেলের মধ্যে দুই কর কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। এছাড়া ২৭ জন উপ-কর কর্মকর্তা, আটজন উপ-কর কর্মকর্তা (লাইসেন্স), ১৩০ জন কর আদায়কারী ও ৫৮ জন অনুমতি পরিদর্শককে একই বিভাগের বিভিন্ন সার্কেলে বদলি করা হয়েছিল।

গত মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়কালে উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে ম্যাচিং ফান্ডসংক্রান্ত জটিলতার তথ্য জানিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছিলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের ৭৮১ কোটি টাকা ম্যাচিং ফান্ড ও প্রায় ২০ কোটি টাকা রিফান্ড মানি বাবদ দেনা পড়ে আছে। ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এ দেনা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দেনা পরিশোধ করতে না পারলে উন্নয়ন খাতে সরকারি সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে একমাত্র আশা কর আদায়। কর আদায় বৃদ্ধি করতে না পারলে সামনের সময় অনেক কঠিন হয়ে যাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..