দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর তালিকাভুক্তিতে গড়িমসি

আগ্রহ নেই পুঁজিবাজারে

শেখ আবু তালেব: লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকের। কিন্তু চতুর্থ প্রজন্মের আটটি ব্যাংক এ নিয়ে গড়িমসি করছে। সর্বশেষ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদন আইন সংশোধন ইস্যু তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে সময় নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এজন্য মতামত জানতে চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যদিও বিএসইসি এর কোনো জবাব দেয়নি।

তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা হচ্ছে ৫৯টি। এর মধ্যে ৩০টি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এদিকে ২০১২ সালের দুই দফায় রাজনৈতিক বিবেচনায় ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া লাইসেন্সের শর্ত পূরণে কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল ব্যাংকগুলোর।

ওই সময়ে অনুমোদন নেওয়া ব্যাংকগুলো হচ্ছে সাউথবাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড (সাবেক দি ফারমার্স ব্যাংক), মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও ইসলামী শরিয়াহ্ভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক। চতুর্থ প্রজন্মের এসব ব্যাংকের প্রতিটিরই পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের মধ্যে চতুর্থ প্রজšে§র সব ব্যাংকই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। সে হিসাবে ২০১৬ সালের মধ্যে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলো মুনাফা করতে পারছে না, দেশের পুঁজিবাজার ভালো যাচ্ছে না, আইপিও আন্ডার সাবস্ক্রিপশন (চাহিদার চেয়ে কম আবেদন) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রভৃতি অজুহাত দেখিয়ে সময় বৃদ্ধির আবেদন করে তারা। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংককে কয়েকটি ব্যাংক লিখিতভাবে জানিয়েছে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি) আইপিও আবেদন বিধি সংশোধন করছে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের আইপিও আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছে। এ যুক্তি দেখিয়ে ব্যাংকগুলো গণহারে ফের তালিকাভুক্তিতে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। চলতি বছরে শেষ হচ্ছে এই সময়। কিন্তু বছর শেষ হওয়ার আর মাত্র এক মাস সময় হাতে থাকলেও আটটি ব্যাংকের কোনোটিই প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেনি। শুধু সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এজন্য ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে আইডিএলসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধও হয়েছে। বাকি ব্যাংকগুলোর মধ্যে কারও আগ্রহ দেখছে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

যদিও আইপিও বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে কয়েক মাস আগেই। সংশোধিত বিধিমালায় আইপিও আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতের চারটি কোম্পানি আইপিওর জন্য আবেদন করেছে, যা যাচাইয়ের জন্য বিএসইসি কাজও শুরু করে দিয়েছে।

আইপিও বিধি সংশোধন বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান শেয়ার বিজকে জানান, আইপিও বিধি সংশোধন হয়ে গেছে। তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করা যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর আবেদন না করার যুক্তিসংগত কোনো কারণ তো দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ প্রজšে§র ব্যাংকগুলো মূলত জবাবদিহি এড়াতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাচ্ছে না। তালিকাভুক্ত হলে তাদের ওপর আরও একটি সংস্থার নজরদারি বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে হবে। এখন তো লভ্যাংশের পুরোটাই মুষ্টিমেয় শেয়ারহোল্ডাররা পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বিএসইসি ঘোষণা দিয়ে আইপিও আইন সংশোধনের বিষয়টি জানিয়েছিল। এটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ব্যাংকগুলো। আইন সংশোধন হওয়ার পরে একটি ঘোষণা দেওয়া হলে সময়মতোই বাংলাদেশ ব্যাংক জানতে পারত। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়ে মতামত জানতে চেয়েছে বিএসইসির কাছে। কিন্তু চিঠি দেওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও গতকাল পর্যন্ত কোনো উত্তর বা মতামত দেয়নি সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, নতুন করে সময় বৃদ্ধিতে ইচ্ছা নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। এজন্য চলতি বছরের মধ্যেই ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করতে পরামর্শ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..