বিশ্ব সংবাদ

চন্দ্রপৃষ্ঠের কাছে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চন্দ্রযান-২

ভারতের স্বপ্নভঙ্গ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৪৭ দিনের যাত্রা শেষে গত শুক্রবার মধ্যরাতের পর চাঁদের মাটি থেকে মাত্র দুই দশমিক এক কিলোমিটার দূরে থাকতে চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা (সংস্থার ইসরো) কন্ট্রোলরুমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা ভারতীয় সময় রাত ১টা ৫৫ মিনিটে বিক্রম চাঁদের মাটি স্পর্শ করবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই সেটি হারিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভারতের ল্যান্ডার বিক্রমের পরিণতি জানতে পারেনি মহাকাশবিজ্ঞানীরা। তবে এক বিজ্ঞানী দাবি করেন, ল্যান্ডার ধ্বংস হলেও, চন্দ্রযান-দুইয়ের ৯৫ শতাংশই অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। সেটি চাঁদের নির্দিষ্ট কক্ষপথ ধরে পাক খাচ্ছে। খবর এনডিটিভি।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতীয় সময় গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৮ মিনিটে শুরু হয় বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া। সেকেন্ডে এক দশমিক আট কিলোমিটার থেকে মহাকাশযানের গতিবেগ কমিয়ে আনা হয় শূন্য। সে জন্য হার্ড ব্রেকিং শুরু হয়। এরপর ফাইন ব্রেকিং পর্ব শুরু হতেই দেখা দেয় বিপর্যয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যাবতীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চন্দ্রযানের। স্থানীয় সময় গতকাল রাত ২টা ২০ মিনিটে ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানান, চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই দশমিক এক কিলোমিটার পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলছিল ল্যান্ডার বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া। তারপর আর কোনো সংকেত পাঠায়নি ল্যান্ডার বিক্রম।
ইসরোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে চন্দ্রযান-২ এর অবতরণ সরাসরি দেখতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চন্দ্রযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘আপনারা যা করেছেন সেটা কম নয়। হাল ছাড়বেন না।’
চন্দ্রযান ভূপৃষ্ঠে নামার সময় ১৫ মিনিটের আতঙ্কের একটি সময় থাকে। সে আতঙ্ক পর্যায় পার হতে পারেনি বিক্রম। চন্দ্রযান-২ কে ইসরোর করা সমস্ত অভিযানের থেকে সবচেয়ে জটিল বলে মন্তব্য করেছেন কে শিবান। সবকিছু ঠিকমতো হলে গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ল্যান্ডার বিক্রম থেকে আলাদা হতো চন্দ্রযান-২ এর রোভার ‘প্রজ্ঞান’।
চন্দ্রযান-২ এর তিনটি অংশ। ল্যান্ডার, রোভার এবং অরবিটার। ল্যান্ডারের কাজ চাঁদের মাটিতে রোভারকে অবতরণ করানো। রোভার চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ ও যাচাই করবে। আর অরবিটার কক্ষ থেকে ছবি পাঠাবে। তবে শুধু তথ্যই পাঠানোই নয়, পৃথিবীর সঙ্গে বিক্রমের যোগাযোগের মূল সেতুও এটি। ওজনে ও শক্তিতে চন্দ্রযান-২ এর তিনটি অংশের মধ্যে অরবিটারই সবচেয়ে এগিয়ে। এটির ওজন দুই হাজার ৩৭৯ কিলোগ্রাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজ্ঞানী বলেছেন, ‘আমাদের চন্দ্র অভিযান ব্যর্থ হয়নি। সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকি ৯৫ শতাংশ আমরা সফল।’ ওই কর্মকর্তার স্পষ্ট যুক্তি, বিক্রম ল্যান্ডার বিচ্ছিন্ন হলেও অরবিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তাই গোটা বছর চাঁদের ছবি পাঠাতে পারবে এ অরবিটারটি। ইসরোর এ কর্মকর্তা বলেন, ল্যান্ডারের ভাগ্যও জানা যেতে পারে ওই অরবিটারের সূত্রেই। সে-ই জানিয়ে দিতে পারে কোথায় রয়েছে বিক্রম। আর সে ছবি হাতে পেলেই বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন, ঠিক কী ঘটেছিল শুক্রবার মধ্যরাতে।
এ অভিযান পরিচালনা করতে ভারতের ব্যয় হয়েছে এক হাজার কোটি রুপি। এ অর্থ এর আগে পরিচালিত যে কোনো দেশের চন্দ্রাভিযানের খরচের তুলনায় বহু গুণ কম। ইসরো বলছে, একই ধরনের অভিযানে মার্কিন সংস্থা নাসার ২০ গুণ অর্থ খরচ হয়ে থাকে।

 

সর্বশেষ..