বাণিজ্য সংবাদ

চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে আর্থিক খাতকে এগিয়ে আসতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলচ্চিত্রশিল্পকে জাতীয় শিল্পনীতির উচ্চ অগ্রাধিকার খাতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, এ শিল্প খাতের উন্নয়নে চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। এ লক্ষ্যে তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস-২০১৭ উদ্যাপন উপলক্ষে ‘বর্তমান পরিবেশনা ও প্রদর্শন পদ্ধতিই আমাদের চলচ্চিত্রের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়’ শীর্ষক সেমিনারে চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের দাবির প্রেক্ষিতে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাজধানীর নিজস্ব ভবনে গতকাল মঙ্গলবার এ সেমিনার আয়োজন করে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।

বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক প্রধান তথ্য অফিসার ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক স্বার্থসংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম খসরু, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেফার উদ্দিন নওশাদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের প্রতিনিধি নূরুল ফজল বুলবুল আলোচনায় অংশ নেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা শিল্পসংক্রান্ত কোনো সুবিধা পায়নি। ফলে দেশি চলচ্চিত্রের মানোন্নয়ন, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সিনেমা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়নি। তারা দ্রুত চলচ্চিত্রকে শিল্পনীতির আওতায় উচ্চ অগ্রাধিকার খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সরকারি উদ্যোগে সিনেমা হলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রদর্শনের জন্য প্রেক্ষাগৃহে ডিজিটাল প্রযুক্তির সংযোজন, পাইরেসি রোধে সেন্ট্রাল সার্ভার তৈরি এবং ই-টিকিটিং পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দেন। বিদ্যমান সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সিনেমা নির্মাণের জন্য তারা সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার দাবি জানান।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, চলচ্চিত্র হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম। শিল্পের সর্বকলা আত্তীকৃত এ গণমাধ্যম ব্যবহার করে জঙ্গিবাদের শেকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব। জঙ্গিবাদ যেখানে সভ্যতার শেকড় কাটে, সেখানে চলচ্চিত্র মানুষকে এর শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি জঙ্গিদের মোকাবিলায় চলচ্চিত্রকর্মীদের ভূমিকা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন। জঙ্গিবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর বাংলাদেশের বিজয় পতাকা উড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের নতুন ধারা সূচনা করেছে। পরিবর্তনের এ ধারাকে এগিয়ে নিতে হলে দেশাত্মবোধের চেতনায় সুস্থধারার জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হবে। তিনি নতুন প্রজšে§র প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অশ্লীল ও সামাজিক মূল্যবোধবিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাণ পরিহার করতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জনগণের মধ্যে পাইরেটেড চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিরুদ্ধে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করার পরামর্শ দেন।

 

 

সর্বশেষ..