শোবিজ

চলচ্চিত্র নির্মাণে গঠন করা হচ্ছে নতুন নীতিমালা

শোবিজ ডেস্ক: চলচ্চিত্র নির্মাণে নৈরাজ্য ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন নীতিমালা গঠন করা হচ্ছে। চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যয় কমাতে কঠোর হয়েছে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি। সংগঠনটির সঙ্গে পরিচালক সমিতি ও এফডিসির অন্যান্য সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে। প্রযোজক সমিতি মনে করে, চলচ্চিত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা ও অনিময় রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে নির্মূল করার জন্য নতুন নীতিমালার বিকল্প নেই। তাই প্রণয়ন হয়েছে নতুন নীতিমালা। নতুন এ নীতিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে গতকাল এফডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি। সেখানে প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক শাসমুল আলম, ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি পদে কামাল মো. কিবরিয়া লিপু, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, উপমহাসচিব শাহীন সুমন, সাংগঠনিক সচিব কবিরুল ইসলাম রানাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। নতুন নীতিমালা পাঠ করে শোনান প্রযোজক কিবরিয়া লিপু। প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাসমুল আলম বলেন, এ নীতিমালা আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এ নীতিমালা যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে প্রতিটি চলচ্চিত্রে অনেক ব্যয় কমে যাবে। আর এটি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্যের মনিটরিং কমিটি। আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন শামসুল আলম এবং সদস্য সচিব থাকছেন বদিউল আলম খোকনসহ আরও অনেকে।

যা থাকছে নীতিমালায়

শুটিং টাইম: শুটিং সকাল ১০টা থেকে শুরু করতে হবে। চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। এর মধ্যে জোহরের নামাজ ও দুপুরের খাবারের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি থাকবে। কোনো শিল্পী বা কুশলী যদি সময়মতো শুটিং সেটে না আসেন, তার জন্য যদি শুটিং শুরু না হয়, এর জন্য যদি আর্থিক ক্ষতি হয় তবে এর দায়দায়িত্ব শিল্পী বা কুশলীকে বহন করতে হবে। শিল্পী আসার পরও সময়মতো শুটিং শুরু করতে না পারলে তার দায় নিতে হবে পরিচালককে।

চুক্তি স্বাক্ষর: শিল্পী ও কুশলীদের অবশ্যই প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। চুক্তির সময় প্রথম কিস্তি ২৫ শতাংশ, পরবর্তী কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বাকি ৭৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হবে। মোট তিন কিস্তিতে পারিশ্রমিক পরিশোধ করা যাবে। কোনোভাবেই এককালীন পারিশ্রমিক প্রদান গ্রহণযোগ্য হবে না। যাদের এক লাখ টাকার ওপরে পারিশ্রমিক, তারা কোনো ধরনের যাতায়াত ভাতা পাবেন না।

আউটডোরে শুটিং: যারা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করে পারিশ্রমিক পান, তারা আউটডোরেও সেই পরিমাণ পারিশ্রমিক পাবেন। আউটডোরে শুটিং চলাকালীন সহকারী পরিচালক ও সহকারী চিত্রগ্রাহকরা যাতায়াতের অর্ধেক হাতখরচ পাবেন।

পোশাক: ড্রেসের জন্য কোনো শিল্পীকে আলাদা কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। গল্পের প্রয়োজনে শিল্পীদের ড্রেস প্রোডাকশন থেকে তৈরি হবে। শুটিং শেষে সব ড্রেস শিল্পীকে প্রোডাকশনের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনো ড্রেস কোনো শিল্পীর পছন্দ হলে সেটা ক্রয়মূল্য দিয়ে শিল্পী শুটিং শেষে নিতে পারবেন।

চলচ্চিত্রের প্রমোশন: চলচ্চিত্র মুক্তির আগে প্রমোশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীদের কমপক্ষে পাঁচ দিন শিডিউল দিতে হবে।

শিল্পীদের সহকারী: অভিনেতা, অভিনেত্রী ও ভিলেন চরিত্রে (প্রধান চরিত্র) যারা কাজ করেন, তাদের একজন করে সহকারী সঙ্গে নিতে পারবেন। যার ব্যয় প্রোডাকশন বহন করবে। অতিরিক্ত কেউ থাকলে তাদের ব্যয়ভার প্রোডাকশন বহন করবে না। উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট চলচ্চিত্রের সমস্যা নিয়ে যৌথ সভায় বসেন চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিবেশক ও পরিচালক সমিতির নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা। সেখানেই নতুন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই মাসের ২৮ তারিখে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য নীতিমালা তৈরি করা হয়। পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত সব সংঠগনের নেতা গত ৬ অক্টোবর প্রযোজক সমিতির অফিসে বসে চূড়ান্ত সভা করেন।

সর্বশেষ..