দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চলতি অর্থবছরের কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ের হার বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিঋণ বিতরণে আগ্রহী হয়ে উঠছে প্রায় সব ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ের হারের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। গত কয়েক বছর ধরেই মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে আদায়ের হার বৃদ্ধির কারণে কমে আসছে খেলাপির পরিমাণও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেছে এমন তথ্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই’১৯-ফেব্রুয়ারি’২০) ব্যাংকগুলো সর্বমোট কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ১৫ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। কৃষিঋণ বিতরণের ৫১ দশমিক চার শতাংশই গেছে শস্য উৎপাদন খাতে। বাকি অংশ গেছে প্রাণিজ, মৎস্য, মসলা ও অন্যান্য খাতে।

চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

যদিও এখনও অনেক ব্যাংক গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, কৃষিঋণ মূলত মৌসুমভিত্তিক বিতরণ বেশি হয়ে থাকে। অর্থবছরের এখনও বাকি আছে। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাবে। গত অর্থবছরেও তা হয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, আট মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। আট রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে সাত হাজার ১২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে ৪৬ বেসরকারি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে সাত হাজার ৯৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

অন্যদিকে তফসিলি ব্যাংকের বাইরেও বিভিন্ন সমবায়, এনজিও এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষি বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে আদায়ের দিক দিয়েও এগিয়ে রয়েছে কুষিঋণ। গত জানুয়ারি শেষে কৃষিঋণ আদায়ের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের আলোচিত সময়ে যা ছিল এক হাজার ৯১২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বর্তমানে কৃষিঋণ খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বর্তমানে কৃষিঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন সমবায়, গ্রামীণ ব্যাংক ও এনজিওর মধ্যমে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৫৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। খেলাপির হার মাত্র দুই শতাংশ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..