প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে সাত দশমিক দুই শতাংশ

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন

নিজস্ব প্রতিবেদক:চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সাত দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যদিও সরকার বলছে প্রবৃদ্ধি হবে আট দশমিক দুই শতাংশ। একই সঙ্গে দেশে প্রচলিত যে শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান আছে, তার মাধ্যমে যেসব গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে, তারা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত নয় বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে এসব পদে কর্মী আনছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল সংস্থাটির স্থানীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট, অক্টোবর ২০১৯’ শীর্ষক হালনাগাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি একটি শক্তিশালী ধারায় এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এ প্রবৃদ্ধি চলমান রাখতে হলে বিভিন্ন খাতে যে দক্ষ জনবল দরকার, দেশের প্রচলতি শিক্ষাব্যবস্থা সে ধরনের জনবল তৈরি করতে পারছে না। সেবা ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যে ধরনের জনবল নিয়োগ দিতে আগ্রহী, সে ধরনের জনবল তৈরি হচ্ছে না। ফলে এক্ষেত্রে বিরাট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এক্ষেত্রে একটি সমীক্ষা উল্লেখ করে জানানো হয়, দেশে যে-সংখ্যক পেশাজীবী প্রয়োজন, তার চেয়ে ৬৯ শতাংশ কম পেশাজীবী তৈরি করে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা। এক্ষেত্রে দক্ষ জনবল প্রাপ্যতা মাত্র ৩১ শতাংশ। বিভিন্ন কারিগরি কাজে দক্ষ জনবলের ঘাটতি ৬২ শতাংশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক পর্যায়ে যে জনবল লাগে, সেখানে ঘাটতি ৬১ শতাংশ। নির্মাণকাজে জনবল প্রাপ্যতায় ঘাটতি ২৭ শতাংশ। বিক্রয় কাজে ঘাটতি ১৮ শতাংশ। প্রয়োজন অনুপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাপ্যতা একমাত্র কৃষি খাতে। এ খাতে দক্ষ জনবল ঘাটতি মাত্র এক শতাংশ।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, রফতানি আয় ও প্রবাসী আয়ে জোরালো প্রবৃদ্ধি ও জোরালো অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে সাত শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
তবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বা বিনিময় মূল্য সমন্বয়, দক্ষ জনশক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, আর্থিক খাতের সুশাসন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অভাবে রফতানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।
বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্যে জোর দিয়ে হ্যাভেন বলেন, হালকা প্রকৌশল, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্প খাতে বিপুল দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এসব খাতে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হলেও সে জনবলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে এ চাহিদা পূরণ করতে হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক জনশক্তি গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাব, বিশেষ করে খেলাপি ঋণে প্রবৃদ্ধি, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক ঋণের সুদের হার দুই অঙ্কে থাকা, দুর্বল রাজস্ব আহরণ ও দুর্বল প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ জন্য মন্দ ঋণ কমিয়ে আনাসহ আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়করণ এবং সময় ও ব্যয় কমিয়ে মানসম্পন্ন উপায়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরামর্শ দেওয়া দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ব্যবসা সহজীকরণ, চলমান উদ্যোগ অব্যাহত রাখা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যয় বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জনে আরও দক্ষ ও মানসম্পন্ন উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে নিতে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তির জোগান নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে রফতানি বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটির সাবেক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, রফতানিতে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনা করে প্রতিযোগিতাসক্ষম হার নির্ধারণে গবেষণা করতে হবে।
এদিকে প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরকার ব্যয় মেটানোর জন্য ব্যাংক থেকে বর্ধিত হারে ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

 

সর্বশেষ..