দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চলতি অর্থবছর বাংলাদেশে ধান উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হবে নামমাত্র!

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড-১৯ মহামারিকালেও ধান উৎপাদনে রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। এতে এক ধাপ এগিয়ে বিশ্বে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ উঠে আসে তৃতীয় স্থানে। যদিও করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকট, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা জেঁকে বসেছিল, তবে সেসব শঙ্কা গুঁড়িয়ে দিয়ে ধান উৎপাদনে প্রায় তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় গত (২০১৯-২০) অর্থবছর ।

যদিও সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) ধান উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি অনেক নিচে নেমে আসবে। বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর দুবার কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। প্রথমবার এপ্রিলে ও দ্বিতীয়বার অক্টোবরে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধান উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপারমেন্ট অব এগ্রিকালচারের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল তিন কোটি ২৭ লাখ মেট্রিক টন। পরের অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন কোটি ৪৯ লাখ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছর ধান উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হয় রেকর্ড ছয় দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর ২০১৯-২০ অর্থবছর দেশে ধান উৎপাদন হয় তিন কোটি ৫৯ লাখ মেট্রিক টন। এতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় দুই দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এদিকে চলতি অর্থবছর ধান উৎপাদন সামান্য বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এতে ২০২০-২১ অর্থবছর ধান উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন। ফলে চলতি অর্থবছর ধান উৎপাদন প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে মাত্র দশমিক ২৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলছে, গত অর্থবছর বিশ্বে ধান উৎপাদন কিছুটা কমে। এ সময় বৈশ্বিক ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪৯ কোটি ৫৮ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছর যার পরিমাণ ছিল ৪৯ কোটি ৬৭ লাখ মেট্রিক টন। তবে চলতি অর্থবছর বিশ্বের ধান উৎপাদন বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধান উৎপাদনে বরাবরের মতো বিশ্বে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে চীন। দেশটিতে গত অর্থবছর ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৬৭ লাখ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছর তা সামান্য বেড়ে দাঁড়াবে ১৪ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতে গত অর্থবছর ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৮৪ লাখ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছর তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ কোটি মেট্রিক টন।

এদিকে ধান উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ায় চলতি অর্থবছর এ শস্যটির উৎপাদনে ভালো প্রবৃদ্ধি হবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এক্ষেত্রে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশটিতে ধান উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন কোটি ৪৯ লাখ মেট্রিক টন। গত অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল তিন কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন।

যদিও পঞ্চম স্থানে থাকা ভিয়েতনামের ধান উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এক্ষেত্রে দেশটিতে চলতি অর্থবছর ধান উৎপাদন দাঁড়াবে দুই কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন। গত অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল দুই কোটি ৭২ লাখ মেট্রিক টন। কয়েক বছর ধরেই দেশটিতে ধান উৎপাদন কমছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের আবাদি জমির প্রায় ৭৫ শতাংশেই হচ্ছে ধানের আবাদ। গত অর্থবছর ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ হেক্টর জমিতে। সেখানে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে। আর দেশে বোরো চালের উৎপাদন ছিল এক কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টন। এছাড়া ১১ লাখ ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়েছিল, উৎপাদন হয়েছিল ৩০ লাখ ১২ হাজার টন।

এদিকে দুই বছর ধরে দেশে ধানের ফলন হয়েছে ভালো। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চালের রেকর্ড উৎপাদন হয়। এতে গত অর্থবছর কোনো চাল আমদানি করতে হয়নি। তবে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও চলতি অর্থবছর চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারিভাবে চাল সংগ্রহে সাড়া না পাওয়ায় এরই মধ্যে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে এক লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। এছাড়া আমদানির পাশাপাশি সরকারিভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। এক্ষেত্রে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..