শেষ পাতা

চলতি বছরে দেশে এইডসে মৃত্যু ১৪১, নতুন শনাক্ত ৬৫৮ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরে দেশে সংক্রমণ এইচআইভি এইডসে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪১ জন এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৬৫৮ জন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী রয়েছে ১২৪ জন। গতকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বিশ্ব এইডস দিবস-২০২০’ উদ্যাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর (টিবি-এল অ্যান্ড এএসপি) অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম এ তথ্য জানান। 

অধ্যাপক সামিউল ইসলাম জানান, নতুন আক্রান্ত ৬৫৮ জন পজিটিভ রোগীর মধ্যে পুরুষ ৭৬ শতাংশ, নারী ২১ শতাংশ ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী তিন শতাংশ। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২১৮ জন, চট্টগ্রামে ১২৭ জন, খুলনা বিভাগে ৬৪ জন, সিলেট বিভাগে ৪৫ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ জন ও রংপুর বিভাগে ১৫ জন রয়েছেন। মোট আক্রান্ত ১৪ হাজারের বেশি। তবে চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র আট হাজার ৩৩ জন। দেশে এ রোগে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৩৮৩ জন।

ডা. শামিউল ইসলাম আরও জানান, নতুন আক্রান্তদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়Ñ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, ২৫ থেকে ৪৯ বছররের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৪ দশমিক ২০ শতাংশ, ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে আট দশমিক ৮৫ শতাংশ, ১০ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে দুই দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। ছয় থেকে ৯ বছরের মধ্যে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। এবং শূন্য থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এক দশমিক ৮৮ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে বিবাহিতরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। এদের সংখ্যা ৭০ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। অবিবাহিতদের সংখ্যা ২৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ লাখ। এ বছর করোনার কারণে নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। এর আগের বছর নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৩৩ লাখের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে, দেশে এখনও সাধারণ জনগণের মধ্যে সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশের নিচে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, সমকামী ও হিজড়াদের মধ্যে সংক্রমণের হার দুই শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা আগে ২৫ শতাংশের ওপরে ছিল।

বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের মোট এইডস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তিন কোটি ৮০ লাখ। এর মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ। মৃত্যু হয়েছে ছয় লাখ ৯০ হাজার মানুষের। এদের মধ্যে চিকিৎসার আওতায় এসেছে দুই কোটি ৫০ লাখের কিছু বেশি।

ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, সারা দেশে ২৩ জেলার ২৮টি হাসপাতালে এইচআইভি টেস্ট চলছে। জিন এক্সপার্ট মেশিন এইচআইভি ভাইরাস শনাক্তে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য) মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এক বিবৃতি জানিয়েছেন, দেশ থেকে এইডস আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মূল করার লক্ষ্যে কাজ করতে স্বাস্থ্যখাতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বেশকিছু নির্দেশনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমাদের দেশে এ সংখ্যা ক্রমশ হ্রাসমান রয়েছে। এ করোনা সময়েও এইডস রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে এবং সরকার এইডস রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা বিনা মূল্যে চালু রেখেছে। এর ফলে, আমাদের দেশে এইডসের সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..