চলনবিলের পথে পথে ভাসমান হাঁসের খামার

তাপস কুমার, নাটোর: নাটোরের চলনবিলে প্রবেশ করলে পথে পথে চোখে পড়ে ভাসমান হাঁসের খামার। মাছ ধরার পাশাপাশি বিকল্প পেশা হিসেবে এখানের অনেকে হাঁস পালন করছেন। এতে তাদের সংসারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।

চলনবিলে হাঁস পালনের সবচেয়ে বড় সুবিধা বিলে পানি থাকা পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস হাঁসের প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহƒত হয় শামুক ও ঝিনুকসহ জলে বাস করা নানা প্রাণী। এতে হাঁস পালনে খরচ কমে। বাড়ে লাভের পরিমাণ। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বছরের পুরো সময় অস্থায়ী খামার গড়ে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এসব পরিবারের ছেলেরা। মূলত হাঁসের ডিম বিক্রি করে মিটছে সংসারের খরচ। চলছে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা। কমছে ঋণের বোঝা।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বা এ ধরনের খামার গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা স্থানীয়দের।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, চলনবিলে ছোটবড় প্রায় ৪৫১টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে রাজহাঁসের খামার অর্ধেক। হাঁস পালনকারীরা পাতিহাঁস ও রাজহাঁস উভয় প্রকার হাঁস পালন করে মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ করেন। এসব খামারে দেড় লাখের বেশি হাঁস রয়েছে। আবার স্থানীয় পরিবারগুলোও পালন করছে প্রায় আট লাখ হাঁস। এতে বেকারত্ব কমার

পাশাপাশি বেড়েছে আয়। পূরণ হচ্ছে স্থানীয়দের আমিষের চাহিদাও।

সরজমিন চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে হাঁসের খামারগুলোয় দেখা যায়, সকাল হলে খামারিরা হাঁস নিয়ে রওনা দেন বিলের পানিতে। সন্ধ্যার আগে আবার ফিরে আসেন খামারে। কেউ আবার পানিতে জালের ঘের করে হাঁসের খামার করেছেন।

চলনবিলের খামারি হাসমত আলী জানান, তিনি ৩০০টি হাঁস পালন করেন। সকালে হাঁসগুলো বিলে চলে যায়। সারাদিন শামুক-ঝিনুক খায়। তিনি নিজেও কিছু খাবার দেন। পরিবারের ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ ছাড়াও হাঁস বিক্রি করে আয় করছেন তিনি।

চলনবিলের আরেক খামারি আজগর আলী জানান, তিনি সারা বছরই হাঁস পালন করেন। এখন তার খামারে ক্যাম্বেল জাতের ৬০০টি হাঁস রয়েছে। চার থেকে পাঁচ মাস বয়সী হাঁস কেনেন। সাড়ে পাঁচ মাস বয়স থেকে ডিম দেয়া শুরু করে। এখন তার খামারে ৫০০টি হাঁস ডিম দিচ্ছে। বছরে খরচ বাদে তিন থেকে চার লাখ টাকা লাভ থাকে তার।

তিনি আরও বলেন, একটি হাঁস গড়ে বছরে ৩০০টি ডিম দেয়। তিন বছর পর ডিম দেয়া কমতে থাকে। তখন মাংসের জন্য হাঁসগুলো বিক্রি করেন। বর্তমানে প্রতিটি ডিম ১১ থেকে ১২ টাকা ও প্রতিটি হাঁস গড়ে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

খামার শ্রমিক মো. বেলাল উদ্দিন জানান, সকাল ৭টায় হাঁস ছাড়ি। তারপর ডিমগুলো তোলা হয়। ৩০০ থেকে ৩৫০টি ডিম হচ্ছে এখন।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, জেলার সব খামারে তিন থেকে চারজন কাজ করছেন। খামারগুলোয় প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার হাঁস পালন করা হচ্ছে। বিলে পানি বেশি থাকলে খরচ তেমন হয় না। পানি না থাকলে খরচ সামান্য বাড়ে। বছরে একেক খামারির কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়।

তিনি আরও বলেন, নাটোরে হাঁস পালন করছে আরও ৪০ হাজার পরিবার। সেখানেও সাত থেকে আট লাখ হাঁস আছে। প্রতিটি পরিবার বছরে আয় করছে ২০ হাজার টাকা করে। এ খাতে আরও মানুষকে সংযুক্ত করার কাজ করে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১২৭  জন  

সর্বশেষ..