স্পোর্টস

চলে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট বিবর্তনের সাক্ষী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ছাড়াও ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন রেজা-ই-করিম। শেষ পর্যন্ত গতকাল রোববার ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট বিবর্তনের সাক্ষী’ বলে পরিচিত মানুষটি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ক্রিকেটের পুনর্জন্ম হয়েছিল রেজা-ই-করিমের হাত ধরে। দেশের ক্রিকেটের প্রচার-প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তার আবেদনেই প্রথম কোনো বিদেশি দল হিসেবে মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব বাংলাদেশ সফরে আসে। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ তার আবেদনেই পেয়েছিল আইসিসির সহযোগী সদস্যপদ।

তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান আমল থেকে রেজা-ই-করিম হয়ে উঠেছেন ক্রিকেট নিবেদিতপ্রাণ। খেলেছেন ক্রিকেট। শুরুটা আন্তঃকলেজ ক্রিকেট দিয়ে। চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে আন্তঃকলেজ ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব দিয়ে শুরু তার ক্রিকেট জীবন। খেলেছেন ঢাকায় সে সময়ে ইগলেটস ক্লাবে। পূর্ব পাকিস্তান আমলে আইয়ুব ট্রফিতেও খেলেছেন। দেশ স্বাধীনের পর চাকরি সূত্রে খেলেছেন অগ্রণী ব্যাংকে। করেছেন আম্পায়ারিং। আবার ক্রিকেট বোর্ডের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও ছিলেন সম্পৃক্ত।

রেজা-ই-করিম ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম বেসরকারি টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিংও করেছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে যুগ্ম সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ও নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবেও ছিলেন পরিচিত।  

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্রিকেট ফেরাতে নিরলস প্রচেষ্টা করে গেছেন রেজা-ই-করিম। ১৯৭৪-৭৫ সালে তৎকালীন বিসিসিবির প্রথম বিভাগীয় লিগ ও টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৬-৭৭-এ বোর্ডের প্রথম সংবিধান খসড়ার সময় কার্যনির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

রেজা-ই-করিমের প্রচেষ্টার ফল আজ পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। টাকায় উপচে পড়ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু দেশের ক্রিকেটের জন্য যে ব্যক্তিটি এত কিছু করলেন, মৃত্যুর আগে যথাযথ মর্যাদা কি পেয়েছেন তিনি? বারবার তার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন কতটাই-বা গুরুত্ব পেয়েছে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো এখন খুঁজবেন অনেকেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..