দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চসিকের প্রশাসক হলেন আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক পদে নিয়োগ পেলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। স্থগিত নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল থাকবেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আজ (৫ আগস্ট) পর্যন্ত বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দায়িত্বে আছেন। আর পরের দিন (৬ আগস্ট) খোরশেদ আলম সুজন দায়িত্ব নেবেন। তিনি আগামী ১৮০ দিনের জন্য এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। যদিও গত মার্চে চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত হয় সেই নির্বাচন।

এক প্রতিক্রিয়ায় খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘৫০ বছর ধরে রাজনীতির মাঠে আছি। দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা আমি রক্ষা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনও অফিশিয়ালি চিঠি পাইনি।’

নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের প্রধান সমস্যা যানজট, ভাঙা রাস্তা। এ ব্যাপারে নজর দেব। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আপগ্রেড করব। হকারদের শৃঙ্খলায় আনতেও বিশেষ পরিকল্পনা আছে।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এখনও মাঠে থাকা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এ সৈনিক সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছিলেন। এর আগে এই রাজনীতিবিদ সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত হন। করোনাকালেও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব আছেন সুজন। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো, বেসরকারি হাসপাতালে অস্বাভাবিক বিল আদায় বন্ধ করা, সরকারি ত্রাণের চাল চুরিতে জড়িতদের ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আলোচনায় ছিলেন খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা খোরশেদ আলম এক সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি সায়েন্সে ভর্তি হন। ১৯৮৬ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মরহুম আবদুল মান্নানসহ ছাত্রনেতারা মিলে গঠন করেন সংগ্রাম কমিটি। তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ১৯৯০-৯৮ সালে চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সংগঠনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন সুজন। ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধসহ অসহযোগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সুজন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেন সুজন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তনি বাহিনী জালালাবাদ পাহাড় আক্রমণ করার পর আহত বাঙালি সৈন্যদের সেবা দেন সুজনসহ সহকর্মীরা। বিহারীরা তাকে দুইবার হত্যার চেষ্টা করলেও এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পান। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে সোচ্চার ছিলেন খোরশেদ আলম সুজন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..