Print Date & Time : 27 September 2021 Monday 10:43 am

চাঁদপুরে সোনালি আঁশে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

প্রকাশ: July 6, 2021 সময়- 12:49 am

বেলায়েত সুমন, চাঁদপুর: চাঁদপুরে পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ অঞ্চলের কৃষক। পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও সার-বীজের সহজলভ্যতার কারণে আবারও সোনালি আঁশের সুদিন ফেরার আশায় পাট চাষ করেছেন বেশিরভাগ কৃষক।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার আট উপজেলায় মোট চার হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেশি পাট এক হাজার ৭৬৫, তোষা পাট এক হাজার ৬৫৫, মেস্তা পাট ১৭০ ও ৫১৫ হেক্টর জমিতে কেনাফ পাট আবাদ হয়েছে।

চাঁদপুর সদরে এক হাজার ৫৬৫, মতলব উত্তর উপজেলায় ২৪০, মতলব দক্ষিণে ৬৮৫, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৬০০, শাহরাস্তিতে ৩৫, কচুয়ায় ৩১০, ফরিদগঞ্জে ২১০ ও হাইমচর উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।

কচুয়া, শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলবের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাম কম হওয়ায় পাট চাষে লোকসান বেশি। ফলে অনেক কৃষক পাট চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে পাটের বাজার দাম ভালো হওয়ায় আবার পাট চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। মূলত এখন কৃষকরা যে ফসলের দাম বেশি পান সেই ফসলই চাষ করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার পাটের বাম্পার ফলন হবে সেই আশা করছেন পাটচাষিরা।

তবে পাটে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ, কাণ্ড ও গোড়া পচার প্রতিকার পদ্ধতি, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আধুনিক কোনো জ্ঞান না থাকায় পাট চাষ করে সুফল না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বেশিরভাগ কৃষক।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান পাটের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বলেন, পাটের রোগের মধ্যে কাণ্ড ও গোড়া পচা অন্যতম। এ কারণে পাটের কাক্সিক্ষত উৎপাদন পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এসব রোগের পাশাপাশি পাটে বিছাও আক্রমণ করে। এতে গাছের ক্ষতি হয়। গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেলে তা আর জীবিত হয়ে উঠতে পারে না। তাই ভালো উৎপাদন পেতে আমরা পাটচাষিদের প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা দিচ্ছি।

চাঁদপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নরেশ চন্দ্র দাস জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বেশি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার জেলায় মোট চার হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। স্পষ্ট কথা হচ্ছে এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। তবে ঠিকমতো পাটের দাম পেলে চাষিরা লাভবান হবে। তাহলেই পাট চাষে চাষিরা ভবিষ্যতেও বেশি আগ্রহী হবেন।