দিনের খবর সারা বাংলা

চাঁদপুরে ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ

বেলায়েত সুমন, চাঁদপুর: চাঁদপুরেহ বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চাষ করা হয়েছে ইরি-বোরো ধান। সোনালি ফসলের আশায় বুক বেঁধেছেন চাষিরা। জমিতে সার-কীটনাশক প্রয়োগসহ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ দৃশ্য দেখলে মনে হবে, যেন ফসলের মাঠে উঁকি দিচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।

সরজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, কচুয়া, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর ও মতলবে ইরি-বোরো ক্ষেতগুলো সবুজ থেকে লালচে হয়ে উঠেছে। কৃষকের এখন ব্যস্ত সময়। কাউকে দেখা গেছে, ধানের জমিতে পানি সেচ দিতে ব্যস্ত। কেউবা ব্যস্ত নিড়ানিতে, কেউবা সার-কীটনাশক নিয়ে।

চাঁদপুরের  অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সবজিসহ নানা ফসল উৎপাদন হলেও, ধানই এখানকার প্রধান ফসল। যুগ যুগ ধরে ধান উৎপাদন করে আসছেন এখানকার কৃষকরা। এ ফসল দিয়ে চলে তাদের সংসার।  চলতি মৌসুমে আগের চেয়ে বেশি  জমিতে কৃষকরা রোপণ করেছেন ধান।

হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা গ্রামের কৃষক আরিফ বলেন, এবার ফলন খুব ভালো। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার অধিক ফসল ঘরে তুলতে পারব। ধান ক্ষেতে দুই দফায় সার-কীটনাশক দেয়া হয়েছে। গাছের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে, এবার ভালো ফলন হবে। সরকার যদি ন্যায্য দাম দেয়, তাহলে লাভবান হতে পারব।

চাঁদপুর খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের আট উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৫৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাইব্রিড, স্থানীয় ও উন্নত ফলনশীল এ তিন জাতের ইরি-বোরোর চাষাবাদ করে থাকে চাঁদপুরের কৃষকরা। কম-বেশি সব উপজেলাই ইরি-বোরোর চাষাবাদ হয়ে থাকে। চাঁদপুর সেচ ও মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, হাজীগঞ্জে বোয়ালজুরী খাল ভাসমান পাম্প সেচ প্রকল্প, মতলব দক্ষিণ, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি কচুয়ায় ব্যাপক ইরি-বোরোর চাষাবাদ হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবার এককভাবে উন্নত ফলনশীল ৫১ হাজার ৭৭৬ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ও হেক্টর প্রতি ৪১০ মেট্রিক টন উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১২ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন। হাইব্রিড আট হাজার ৫৫১ হেক্টর চাষাবাদ ও হেক্টরপ্রতি ৪৯৫ মেট্রিক টনে উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন।

উৎপাদন বাড়াতে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭০০ মেট্রিক টন বিআর ২৮, ২৯ ও ৫৮ বোরো বীজ বরাদ্দ দিয়েছে  কৃষি বিভাগ। গত বছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত কৃষকরা সরাসরি চাঁদপুর বীজ বিপণন কেন্দ্র থেকে কৃষি বিভাগের অনুমোদিত ১২৩ জন ডিলারের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করতে নির্দেশ ছিল। ১০ কেজি প্রতি ব্যাগের মূল্য ৫৫০ টাকা, মান ঘোষিত ৪৮০ টাকা ও সুগন্ধি ৫৮০ টাকা করে মূল্য সংযোজন করা হয়েছে।

এসব উপজলোয় চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যে সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে চাঁদপুরের আট উপজেলায় কম-বেশি হারে সার, বীজ ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

চাঁদপুরে প্রতি বছর গড়ে উৎপন্ন হয়ে থাকে চার লাখ ২৮ হাজার ৩২২ মেট্রিক টন। এক সময় খাদ্য ঘাটতি ছিল প্রকট। জেলাকে ২৭৪ কৃষি ব্লকে ভাগ করে সব ধরনের প্রযুক্তি উপজেলাভিত্তিক দেয়া হয়। ফলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে চার লাখ ২৮ হাজার ৩২২ মেট্রিক টন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..