সারা বাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চাটাইডুবী আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। চার বছর ক্লাস না করেই অধ্যক্ষের স্ত্রী বেতন নিচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফলে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালে মজিবুর রহমান সুপার হওয়ার পর থেকে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর আগে তিনি তার স্ত্রীসহ পাঁচ শিক্ষক নিয়োগ দেন। এমনকি আলিম স্তরে ব্যয়ভার নির্বাহের কথা বলে তার স্ত্রীকে নিয়োগ দেন। তার স্ত্রী সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসেবে ২০১৫ সালের ৪ জুন যোগদান করে আজ অবধি কোনোদিন মাদ্রাসায় আসেননি। শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার স্ত্রীর বদলে নিজেই স্বাক্ষর করেন অধ্যক্ষ। সম্প্রতি ওই মাদ্রাসায় একজন নিরাপত্তা প্রহরী পদে নিয়োগদানের জন্য জনৈক ব্যক্তির কাছে তিনি আট-নয় লাখ টাকা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিষয়টি জানতে পেরে সাক্ষাৎকার বোর্ডের কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেননি।
এ ব্যাপারে এক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম, একনায়কতন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষসহ ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের সঙ্গে তার অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার স্ত্রীর সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষিকা শাহনাজ খাতুনের ক্লাস না করে বেতন নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এটিকে অনিয়ম স্বীকার করে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এটি করা হয়েছে। মোট বেতনের ৯ হাজার টাকা তার স্ত্রী নেন এবং আট হাজার টাকা মাদ্রাসার আলিম স্তরের জন্য দেওয়া হয়। সম্প্রতি নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের প্রশ্নে তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে হচ্ছে। নিয়োগ বিষয়ে তার এককভাবে তেমন কিছু করার নেই।
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলাউদ্দীন জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তিনি শুনেছেন। পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ক্ষমতা অনেক। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জবাবদিহিতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে। তাছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত এখতিয়ার শিক্ষা বোর্ডের। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..