চাকরিচ্যুত ব্যাংককর্মীদের দ্রুত পুনর্বহাল করা হোক

মহামারি কভিড সংক্রমণের কারণে গত বছরের এপ্রিলে যখন সাধারণ ছুটি চলছিল, তখনও ব্যাংকগুলো খোলা ছিল। ঠিক ওই সময়ে অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা ‘স্বেচ্ছায়’ চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর বছরজুড়ে ব্যাংকারদের চাকরি ছাড়া অব্যাহত ছিল, যা চলতি বছরেও অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে অনেক ব্যাংক ব্যাংকারদের বেতনও কমিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছয়টি ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে উঠে এসেছে, নথিপত্রে ‘স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগ উল্লেখ থাকলেও বেশির ভাগ কর্মকর্তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া’র ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। কোথাও কোথাও কারণ দর্শানোর নোটিস বা আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যূনতম সুযোগও দেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি ওই ছয় ব্যাংকের তিন হাজার ৩১৩ কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন। এর মধ্যে ‘স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগ করেছেন তিন হাজার ৭০ জন। আর ১২ কর্মকর্তাকে ছাঁটাই, ২০১ কর্মকর্তাকে অপসারণ ও ৩০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানতে পেরেছে ‘স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগীদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। আর ছাঁটাই, অপসারণ ও বরখাস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ক্যানসার আক্রান্ত কর্মকর্তাকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরির সুরক্ষা দেয়ার উদ্যোগ নেয়ার সম্ভাবনা দেখে গত ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের দেখা করেন বেসরকারি ছয় ব্যাংকের এমডি। পরদিন শেয়ার বিজে ‘নির্দেশনা অমান্য করে কর্মী ছাঁটাই: বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ক্ষমা চাইলেন ছয় ব্যাংকের এমডি’ শীর্ষক বিশেষ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরই ব্যাংক খাতে আলোচনার শীর্ষে চলে আসে বিষয়টি।

অবশ্য ক্ষমা চাইলেও পরবর্তী নির্দেশনা দিতে দেরি করেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বৃহস্পতিবার কয়েকটি নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দিন জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়Ñক. সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা যাবে না; খ. কভিডকালে শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা বা অদক্ষতার কারণ দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত অথবা পদত্যাগ করতে বাধ্য কর যাবে না; গ. ১ এপ্রিল ২০২০ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুত হয়েছেন কিংবা চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের (আবেদনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে) বিধিমোতাবেক চাকরিতে বহাল করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা সময়োপযোগী ও কর্মিবান্ধব বলে আমরা মনে করি। কভিডের সৃষ্ট নেতিবাচক পরিস্থিতিতে সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং প্রত্যাশিত  প্রবৃদ্ধি অর্জনে এটি ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উজ্জীবিত করবে বলেই ধারণা। নির্দেশনা মেনে ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও নির্দেশনা পরিপালন নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়াতে হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া একজন কর্মীও যেন চাকরিচ্যুত না হন।

সর্বশেষ..