দিনের খবর শেষ পাতা

চাকরিতে বয়স বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতা ও হতাশা বাড়বে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হলে তাতে ‘প্রতিযোগিতা ও হতাশা’ দুটোই বাড়তে পারে। এ কারণে তেমন কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলে সংসদকে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সেশনজট থাকলেও বর্তমানে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সেশনজট ‘নেই বললেই চলে’। ফলে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ১৬ বছরে এসএসসি, ১৮ বছরে এইচএসসি এবং ২৩-২৪ বছরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে পারছে।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ প্রার্থীদের জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর বলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরও তারা চাকরিতে আবেদনের জন্য

কমপক্ষে ছয়-সাত বছর সময় পেয়ে থাকে। এছাড়া ৩০ বছর বয়সসীমার মধ্যে একজন প্রার্থী চাকরির জন্য আবেদন করলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দু-এক বছর সময় লাগলেও তা গণনা করা হয় না।’

বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোয় নিয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর। এ সীমা বাড়ানোর দাবি বেশ কয়েক বছর ধরে রয়েছে, যদিও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

মহামারির মধ্যে নিয়োগ বন্ধ থাকায় যারা ক্ষতিতে পড়েছে, তাদের জন্য দুই দফা সুযোগ দেয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গিয়েছিল, গত সেপ্টেম্বরেও তাদের সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু মহামারি প্রলম্বিত হতে থাকায় এ বছর আরেক দফা সুযোগ দেয়া হয়। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর হয়েছে, তারাও আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিতব্য সব সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারবেন।

মহামারির মধ্যে চলতি বছর তিনটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হলেও অন্য চাকরির সার্কুলার খুব বেশি হয়নি। ফলে চাকরির বাজারের অবস্থাও খুব বেশি বদলায়নি।

সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছরে উন্নীত হওয়ার ফলে বর্তমানে শূন্য পদের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হলে বিভিন্ন পদের বিপরীতে চাকরিপ্রার্থীদের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে যাদের বয়স বর্তমানে ৩০ বছরের বেশি, তারা চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ পেলেও ৩০-এর কম বয়সী প্রার্থীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আপাতত বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৮তম থেকে ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৩৫ হাজার ৬০৩ প্রার্থীকে ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি।

একই সময় নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে পাঁচ হাজার ১৪৩ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদে পাঁচ হাজার ৭৪৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..