প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চাকরিপ্রত্যাশীদের আশার বাণী শোনাবে কে

আমাদের দেশে চাকরির পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো নিকৃষ্ট কাজের অভিযোগ পাওয়া যায়। চাকরিপ্রত্যাশীদের এমন আরও বহু অসহায়ত্বের কথা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো, স্থায়ীভাবে চাকরির পরীক্ষায় প্রবেশসীমা বা বয়স বৃদ্ধি না করা। কভিড-১৯ বা বিশ্ব মহামারি কভিড চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এক অভিশাপ। কারণ কভিডে পৃথিবীর সবকিছু থমকে গিয়েছিল। বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থায়। কারণ কভিডকালে শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই বছর সময় শিক্ষাজীবন থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মৌলিক পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা এমন ধাক্কা কীভাবে পুষিয়ে উঠবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশীদেরও বেহাল দশা। কভিড চলাকালে অনেকের চাকরির আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে। আবার অনেকেরই কাছাকাছি বয়স ছিল। আর এই সময়টার ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকার ব্যাকডেট নামক পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা শুধু ওই সময়কার চাকরিপ্রত্যাশীরা ভোগ করবে। কিন্তু উচিত ছিল এই পদ্ধতিটা স্থায়ীভাবে সর্বজনীন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরে পেতে পারে। আমাদের দেশের বর্তমান চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। ১৯৯১ সালে সেশনজটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ২৭-এর পরিবর্তে করা হলো ৩০ বছর।

বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কারণ চিকিৎসকদের শিক্ষাজীবন বেশি দিনের হওয়ার কারণে তাদের আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে। কোটায় আওতাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্যও চাকরির বয়সসীমাও ৩২ বছর। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মান কোর্স তিন বছরের স্থলে চার বছর করা হলেও চাকরিতে আবেদনের প্রবেশকাল বাড়ানো হয়নি।

চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি দাবি হলো, চাকরি পরীক্ষার আবেদন ফি কমানো। চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কেউ গৃহশিক্ষকতা কিংবা খণ্ডকালীন চাকরি করে নিজের পড়ার খরচ চালাচ্ছে। কিন্তু এত বেশি ফি’র কারণে চাকরি পরীক্ষার আবেদন করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এত কষ্টের মধ্যেও চাকরি পরীক্ষায় আবেদন করেও শান্তি নেই, আশা নেই। কারণ একই সময়ে বিভিন্ন পদের বা মন্ত্রণালয়ের চাকরি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে। ফলে তারা সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না এবং তাদের কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তাই সরকারের উচিত হবে, চাকরির পরীক্ষায় কোন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরসহ সঠিক ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। চাকরির আবেদন ফি যেন যৌক্তিক হয়। একই দিন যাতে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা না হয়।

সায়েম আহমাদ

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা কলেজ, ঢাকা