প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চাকরির আবেদন ও পরীক্ষার ফলেই টিকে আছে টেলিটক  

হামিদুর রহমান: রিটেইলারের দোকানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটকের পর্যাপ্ত সিম না থাকায় সরকারি চাকরির আবেদন ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফল যেমন পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। কিছুসংখ্যক গ্রাহক টেলিটক সিম ব্যবহার করলেও বেশিরভাগ রিটেইলারের দোকানে টাকা রিচার্জের ব্যবস্থা না থাকায় মোবাইলে রিচার্জ করতেও ভোগান্তি হচ্ছে গ্রাহকদের। অন্যদিকে নিজস্ব অ্যাপ না থাকায় ও মার্কেটিংয়ের ধীরগতির কারণে সিম রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না রিটেইলাররা। আর এসব কারণে গ্রাহক হারাচ্ছে টেলিটক। গত ছয় মাসে টেলিটকের গ্রাহক কমেছে চার লাখ।

গ্রাহকরা জানান, সরকারি বিভিন্ন রকম কাজ ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে টেলিটক ব্যবহার করতে হয়; যা অন্যান্য অপারেটর থেকে করা যায় না। বাচ্চাদের বিভিন্ন পরীক্ষার ফল, সরকারি চাকরির আবেদন, চাকরির রেজাল্টসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে টেলিটক ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আর প্রতি বছর কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব রেজাল্ট জানতে হলেও অনলাইনের পাশাপাশি টেলিটক ব্যবহার করতে হয়। অথচ রিটেইলারের দোকানে সব অপারেটরের সিম পাওয়া গেলেও টেলিটকের সিম পেতে হয়রানিতে পড়তে হয় গ্রাহকদের। আবার কিছু কিছু দোকানে সিম পাওয়া গেলেও অ্যাকটিভ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় অপেক্ষা করেও সিম অ্যাকটিভ করা যায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. গোলাম কুদ্দুস শেয়ার বিজকে বলেন, ‘মার্কেটে সিম পাওয়া যাচ্ছে না বিষয়টি সঠিক নয়, ভুল। আমাদের তালিকাভুক্ত রিটেইলারদের সিম দেওয়া হচ্ছে। মার্কেটিং ব্যবস্থাও ভালো হচ্ছে, যা আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে।’

সারোয়ার আলম নামে এক গ্রাহক জানান, আমার তিন ছেলে, দুই মেয়ে সবাই পড়াশোনা করে। আমার ভাইয়ের ছেলেমেয়েরা সবাই গ্রামে লেখাপড়া করে। প্রতি বছর কেউ না কেউ পরীক্ষা দিচ্ছে। গত বছর একটি টেলিটক সিম কিনেছি। আর গত সপ্তাহে টেলিটকের একটি সিম কিনতে বের হলে কয়েকটি রিটেইলারের দোকান ঘুরেও সিম কিনতে পারিনি। সর্বশেষ একটি রিটেইলারের দোকানে সিম পেলেও টেলিটকের অ্যাপ কাজ না করায় সিমটি অ্যাকটিভ করতে পারিনি।

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ রিটেইলারের দোকানে টেলিটকের সিম রাখা হয় না। পাশাপাশি এসব দোকানে অন্যান্য মোবাইল অপারেটরের টাকা রিচার্জ থেকে শুরু করে সব রকম সুবিধা থাকলেও টেলিটকে খুব একটা সুবিধা পাচ্ছে না গ্রাহকরা।

কয়েকজন রিটেইলারদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, টেলিটকের মার্কেটিং ব্যবস্থা অন্যান্য কোম্পানির চেয়ে অনেক পিছিয়ে। দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্কেটিং ব্যবস্থা খুব ভালো। তাদের এসআর (সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) সারাক্ষণ ফিল্ডে থাকে। অন্যদিকে টেলিটকের পর্যাপ্ত পরিমাণ এসআর (সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) নেই। অনেক সময় প্রয়োজনেও তাদের পাওয়া যায় না। এছাড়া অনেক দোকান আছে যেগুলোয় টেলিটকের এসআর সেখানে পৌঁছায় না। অনেক সময় এসআরদের কাছে সিম চেয়েও পাওয়া যায় না।

তারা জানায়, অন্য অপারেটরগুলো বেশি চললেও টেলিটকের আলাদা কিছু সেবাÑচাকরির আবেদন, পরীক্ষার ফলসহ আরও কিছু সুবিধা রয়েছে। যেগুলো অন্য অপারেটরে পাওয়া যায় না। যে কারণে তারা এখনও মার্কেটে টিকে আছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে টেলিটক খুব বেশি ব্যবহার হয় না বলে জানান তারা।

রামপুরার শশী টেলিকমের সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, দোকানে সব অপারেটরের সিম থাকলেও টেলিটকের সিম নেই। গ্রাহকরা সিম চাইলেও দিতে পারি না। প্রতিনিধিদের কাছে কয়েকবার সিম চাইলেও তারা দিতে পারছে না। হাউজে সিম স্টক নেই বলে তারা জানায়। অথচ অন্য অপারেটরগুলো এক প্রকার জোর করেই সিম দিয়ে যায়।

বিটিআরসির প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক বেড়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার। প্রতিষ্ঠানটির একীভ‚ত হওয়ার ছয় মাসে গ্রাহক বেড়েছে ৫০ লাখেরও বেশি। অন্যদিকে গ্রামীণফোনের গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে ৩৬ লাখ। যদিও ছয় কোটি ১৫ লাখ গ্রাহক নিয়ে এখনও ব্যবহারকারীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। অন্যদিকে বাংলালিংকে গ্রাহক দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ১৫ লাখ। গত ছয় মাসে অপারেটরটির গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে ছয় লাখ। তবে বেসরকারি এই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো পর্যায়ক্রমে পিছিয়ে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। গত ছয় মাসে টেলিটকের গ্রাহক না বেড়ে উল্টো কমেছে চার লাখ। এ বছর জুন পর্যন্ত অপারেটরটির গ্রাহকসংখ্যা ৩২ লাখ। আর গত বছর সাময়িক বন্ধ থাকার পর দেশের প্রথম সেলফোন অপারেটর সিটিসেলের কোনো গ্রাহকই অবশিষ্ট নেই।