সম্পাদকীয়

চাকরিহারা শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হোক

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের কাজ করানোর কথা থাকলেও কারখানার মালিকরা আদৌ তা মেনে চলেননি। কভিডকালে মালিক-শ্রমিকের জীবনের সমান ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি ঘোষণা ও নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের প্রতি সুবিচার করেছে, এটি বোধকরি তারাও জোর দিয়ে বলতে পারবেন না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় ধাপে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ কাজ ও চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। পরে সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়। প্রথম প্রথম কারখানায় ঢোকার আগে প্রধান ফটকে শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা, হাত ধোয়া, জুতা জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করে। পরে শৈথিল্য আসে। অবশ্য হাজার হাজার শ্রমিক একসঙ্গে চলাচল করায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়নি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অধিকাংশ কারখানা নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থাও করেনি। ফলে গণপরিবহন সংকটে কারখানায় আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক শ্রমিক বিড়ম্বনায় পড়েন। তবুও জীবন ধারণ ও পোষ্যদের মুখের দিকে তাকিয়ে ঝুঁকি উপেক্ষা করে কর্মস্থলে গেছেন তারা। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, কেউ কম বেতনে কাজ করেছেন। গত বছরের মতো এবারও লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা বেতন-সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন কর্মস্থলে যেতে হয়নি। কিন্তু শ্রমিকদের বেলায় তা হয়নি। উল্টো অনেকের চাকরি গেছে, বেতন কমেছে।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও সজাগ কোয়ালিশন আয়োজিত ‘করোনায় তৈরি পোশাক খাতের করপোরেট জবাবদিহি’ শীর্ষক সংলাপে বলা হয়েছে কভিডে চাকরি হারিয়েছেন ২০ শতাংশ পোশাকশ্রমিক। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে সিপিডি বলেছে, নতুন কাজে শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। আগে যেখানে শ্রমিকরা মাসে আট থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করতেন, সেখানে চাকরি হারানোর পর নতুন কাজে তারা এখন মাসে গড়ে সাত হাজার টাকা আয় করেন।

চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে যারা নিজেদের কারখানায় কাজ ফিরে পাননি, তাদের ২০ শতাংশ দিনমজুরের কাজ করেন। ২০ শতাংশের মতো শ্রমিক কাজ করছেন অনানুষ্ঠানিক খাতে। আরও ২০ শতাংশ শ্রমিক পোশাক খাতের বাইরে বিভিন্ন কারখানায় কাজ নিয়েছেন। নিজেরা কিছু করার চেষ্টা করেছেন, এমন শ্রমিক প্রায় ২৭ শতাংশ। মাত্র ছয় দশমিক সাত শতাংশ শ্রমিক তৈরি পোশাক খাতে কাজ ফিরে পেয়েছেন। বাকি কয়েক শতাংশ অন্য খাতে গেছেন। চাকরি ও আয় হারানো শ্রমিকদের খরচ কিন্তু কমেনি। বাসাভাড়ায় ছাড় নেই, নিত্যপণ্যের দামও চড়া। কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য কাজ হারানো শ্রমিকরা খাওয়া কমিয়ে দেন। তাদের নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের অন্নের সংস্থান করতে কষ্ট হয়। পুষ্টিহীনতায়ও ভুগতে পারে কেউ। কাজ হারানো পোশাকশ্রমিকদের দুর্ভোগে যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য তাদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনা গেলে অন্তত কেউ বাদ পড়বেন না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..