প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চাকরি বাজারের সঙ্গে প্রচলিত শিক্ষার অসামঞ্জস্য রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৬-১৭ সময়ের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য অনুসারে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ যুব জনগোষ্ঠী শিক্ষা, কর্ম বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণে যুক্ত নেই। এই যুব জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা বেশি শিক্ষিত, তাদের মধ্যে বেকারত্বের হারও বেশি। সুতরাং এ কথা বলা চলে যে, দেশে প্রচলিত যে শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান, তা চাকরির বাজারের চাহিদা মোতাবেক জনশক্তি তৈরি করতে পারছে না। বাজার চাহিদার বিচারে বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে ঘাটতি বিদ্যমান, তা হলো যোগাযোগ দক্ষতা ও ভালো ইংরেজি না জানা।

বেসরকারি গবেষণা ও নাগরিক সংগঠন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) পরিচালিত ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যান্ড ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ: অ্যান এক্সপ্লোরারি অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গতকাল এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরীন আখতার এবং সম্মাননীয় অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।

সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী সৈয়দ ইউসুফ সাদাত জরিপের ফলাফল তুলে ধরে জানান, অনলাইনে পরিচালিত এ জরিপে ৯টি বিষয় নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে ঘাটতি রয়েছে যোগাযোগ দক্ষতা ও ইংরেজি জানার ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীরা মাত্র ৩০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। আর সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে ‘সৃষ্টিশীলতা’ খাতে।

খণ্ডকালীন চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত ওই জরিপ অনুযায়ী সম্ভাব্য চাকরি প্রার্থীদের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে ‘সৃষ্টিশীলতা’। দেশের সরকারি-বেসরকারি ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন চাকরিজীবী ও চাকরি প্রার্থী ৫০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে সহযোগিতা করে জার্মানভিত্তিক সংস্থা ফ্রেডরিক এবার্ট স্টিফটাং।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে কম নম্বর দেয়া হয়েছে সংখ্যা-গাণিতিক দক্ষতায়। এ বিষয়ে মাত্র ২৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীরা বিষয়টিকে গৌণ বলে উল্লেখ করায় বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি। এছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারীরা দলগত কার্যক্রম ও নেতৃত্বের দক্ষতায় ৫৪, সময় ব্যবস্থাপনায় ৫২, ‘ক্রিটিক্যাল চিন্তা’ দক্ষতায় ৪৮, সমস্যা সমাধান দক্ষতায় ৪৫, কম্পিউটার জ্ঞানে ৪২ এবং ব্যবসায়িক দক্ষতায় ৪১ শতাংশ নম্বর পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশে মোটামুটি পরিচিত বিষয়। বিষয়গুলো আমাদেরও জানা। তবে সিপিডি মাঠ পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে এ গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। এ গবেষণার ফলাফল আমাদের ধারণার সঙ্গে মোটামুটি মিলে। এ জন্য আমরা বিদ্যমান ব্যবস্থার রূপান্তর চাচ্ছি। এ রূপান্তর কেবল কৃষি থেকে শিল্পে রূপান্তর নয়, বরং সমাজে বিদ্যমান প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিরও রূপান্তর আমরা চাই। কারণ এ রূপান্তর বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা।

শিরীন আখতার বলেন, আমাদের চাকরির বাজারের জন্য চাহিদাভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাছাই করে শিক্ষা ও মানসিক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে খাতভিত্তিক পড়াশোনা করিয়ে চাকরির বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে আমাদের যেসব খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ অনেকের, সেগুলোতে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এখনও দক্ষতা বাড়ানোর সময় আছে।

নিহাদ কবির বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় গলদ আছে। শিক্ষার্থীদের বাছাই করে খাতভিত্তিক পড়াশোনা করানো হচ্ছে না। এখন সবাই সরকারি চাকরি করতে চায়। মানসিকভাবে খাতভিত্তিক পড়াশোনা ও মানসিকভাবে প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা না থাকার কারণেই কেউ শিল্পে কাজ করার জন্য প্রস্তুতি নেয় না।