প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চাপ সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি বেড়েছে শ্রীলঙ্কার এইচএন ব্যাংকের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অশান্ত বাজার পরিস্থিতিতেও বছরের প্রথম প্রান্তিকে শ্রীলঙ্কার হট্টন ন্যাশনাল ব্যাংক (এইচএনবি) পিএলসি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এ সময় ব্যাংকটি কর-পূর্ববর্তী মুনাফা (পিবিটি) করেছে ৫০৯ কোটি রুপি এবং কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে (পিএটি) ৪০৮ কোটি রুপি। এ হিসাবে ব্যাংকটি যথাক্রমে সাত ও তিন শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। খবর: দ্য আইল্যান্ড।

ব্যাংকের চেয়ারপারসন অরুনি গুনেতিল্লেকে প্রথম প্রান্তিকের পারফরম্যান্স নিয়ে মন্তব্য করেন, শ্রীলঙ্কা অপ্রত্যাশিত সময় পার করলেও এইচএনবির প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে। এই সংকটজনক সময়েও আমি স্টেকহোল্ডারদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখার ব্যাপারে আশাবাদী। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও টেকসই লক্ষ্য অর্জন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

ব্যাংকটি ২০২১ সালের আগস্ট থেকে কঠোর আর্থিক নীতি অনুসরণ করছে। এ কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের নিট ইন্টারেস্ট ইনকাম হয়েছে ৫৯ শতাংশ। নিট ফি ইনকাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি রুপিতেÑকার্ডে লেনদেন ও বাণিজ্য আয়ের কারণে এই মুনাফা হয়েছে তাদের।

চলতি বছর মার্চে রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। মার্চের শুরুতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুপির বিনিময় হার খোলাবাজারে ছেড়ে দেয়ায় তা ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ২৭৫ রুপি দরে লেনদেন হয়। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ২০৩ কোটি ডলার রিজার্ভ ছিল। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে দেশটি জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি এবং মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে সংগ্রাম করছে।

আলোচ্য প্রান্তিকে এইচএনবির পরিচালন ব্যয় বাড়ে ২১ শতাংশ। এর মধ্যে ছিল বেতন, বোনাস ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়। এ সময় ব্যাংকটির কর আদায় বাড়ে ৩৩ শতাংশ।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাথন অ্যালেস বলেন, কয়েক বছর ধরে সংকটে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২০১৭-১৮ সালে প্রতিকূল আবহাওয়া, ২০১৯ সালে ইস্টার সানডেতে হামলা ও এরপর সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত কভিড-১৯ মহামারির কারণে দুর্ভোগ বেড়ে যায় এখানে। তবে আমাদের ব্যাংক খাত ও এইচএনবি এসব প্রতিকূলতা কাটাতে

সক্ষম হয় এবং স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। আগামী মাসগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং। এ মুহূর্তে আমরা ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ অন্য সংস্থা ও সহায়তাকারী দেশগুলো থেকে পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করবে।

২০১৯ সালে ইস্টার সানডেতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অর্থনৈতিক স্বস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন

গোতাবায়া রাজাপক্ষে। এরপর তিনি শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর সংকোচন নীতি ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্ত বাজেট ঘাটতি আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। ট্যাক্স কাটছাঁটের কয়েক মাস পর বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। ফলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা শূন্যে নেমে আসে, প্রবাসী শ্রীলঙ্কানদের রেমিট্যান্সও কমে যায়। মূলত ঋণ পরিশোধের জন্য সরকার এই বড় দুই আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করেছিল।

গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রধান নিয়োগ দেন। ওই নিয়োগের পর শ্রীলঙ্কা পাঁচ হাজার ১০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধে অপারগতা ঘোষণা করে। কারণ তারা অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখবে। কিন্তু এই পদক্ষেপ দেশটির ক্ষয়িষ্ণু অর্থের ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হয়।

গত মাসের শুরুতে দেশটির ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা ছিল পাঁচ কোটি ডলার। দেশটি এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সহায়তা (বেল আউট তহবিল) নিয়ে আলোচনা করছে।