সম্পাদকীয়

চামড়ার দামে বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যবস্থা নিন

দাম নির্ধারণ ও রপ্তানির ঘোষণা দেওয়ার পরও কোরবানির চামড়ার দামে বিপর্যয় থামানো গেল না। গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৫০-৬০০ এবং ছাগল ২-১০ টাকা। ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেকে চামড়া ফেলে এসেছেন। সব জায়গাতেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কমে বিক্রি হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া। অথচ গতবারের চেয়েও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম এবার ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে ধরা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে গতবারের চেয়ে পশু কোরবানি অন্তত ৫০ শতাংশ কমেছে। তা সত্ত্বেও চামড়ার দাম কম হওয়ার পেছনে পুরোনো যুক্তিই দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে চামড়াশিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ধরা হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা। আবার দরপতন ঠেকাতে ২৯ জুলাই কাঁচা ও ওয়েট-ব্ল– চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

গতবার চামড়া কিনে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়েছেন। অনেকে চামড়া ফেলে দিতে বাধ্য হন। তাই এবার তেমন ব্যবসায়ীরা মাঠে ছিলেন তুলনামূলক কম। যদিও কম দামে সন্তুষ্ট চামড়া ব্যবসীয়ারা। তারা বলছেন, কাঁচা চামড়া যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা ঠিকই আছে। কারণ প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ৮ টাকা খরচ হয়। ছোট চামড়াই বেশি আসছে এবার। চামড়া প্রক্রিয়াজাতে লবণের খরচ আছে। কাটিংয়েও বাদ যাবে কিছু চামড়া। তাছাড়া শেষ পর্যন্ত কী দাম পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন অনেক ব্যবসায়ী।

ঢাকার বাইরে কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে চামড়া সড়কে ফেলে দেওয়া ও পুঁতে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অবিক্রীত থাকবে না, কোনো সিন্ডিকেট নেই বলে দাবি করা হলেও তা আছে বলে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ গুরুতর। আড়তগুলোয় পুরোটাই বাকিতে চামড়া দিলেও পরে তারা টাকাটা কথামতো বুঝে পান না। চামড়ার দাম নির্ধারণেও অস্পষ্টতা আছে। চামড়ার দাম মাঠ পর্যায়েই পতন ঘটিয়ে পাশের দেশে রপ্তানি করার অভিযোগ উঠেছে। আড়তদারদের দুষ্টুচক্রের জাল ভিন্ন করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনে দেশীয় চামড়াশিল্পকে রক্ষার দায় নিতে হবে সরকারকেই। প্রতিবারই বাণিজ্যমন্ত্রী এ পরিস্থিতির পেছনে চামড়া ব্যবসায়ী বা আড়তদারদের কারসাজিকেই ইঙ্গিত করেন। আর প্রতিবারই ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করা হলেও তারা শেষ সময়ে ঘুরে দাঁড়ান। এবারও তা-ই হয়েছে। যা-ই বলা হোক না কেন, দেশীয় চামড়া শিল্প রক্ষায় এখন জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..