সম্পাদকীয়

চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিন

ঈদুল আজহায় পুরো বছরের প্রায় ৬০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয়ে থাকে। এ সময় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কম থাকে। প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এতে দেখা গেছে, গতবারের চেয়ে এবার গরুর চামড়ায় প্রতি বর্গফুটে ৫ টাকা আর ছাগলের চামড়ায় ২ টাকা বেড়েছে। তথ্যমতে, ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। গত বছর যা ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। একই চামড়া ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; গত বছর যা ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা। তাছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা; প্রতি বর্গফুট বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ থেকে ১৪ টাকা।

চামড়ার দাম বাড়লে এর প্রধান সুবিধাভোগী হয় সমাজের দুস্থ, অসহায় মানুষ। চামড়া বিক্রির টাকা কোরবানিদাতারা দুস্থ-এতিমদের দান করেন। এটি অন্য খাতে খরচের সুযোগও নেই। চামড়ার দাম কম হলে দুস্থরা বঞ্চিত হন, ফতুর হচ্ছে মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ভোক্তারাও সুফল পান না। সুফল পাচ্ছেন আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা। প্রতিবছর আড়তদার-ট্যানারি মালিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে দামে কারসাজি করেন বলে অভিযোগ জোরালো। এমনকি কর্তৃপক্ষকে দিয়েও কম দাম নির্ধারণ করে নেন তারা। এবারও তা হয়েছে।

কয়েক বছর ধরে দেশে চামড়ার দাম কমছে। গত দুই বছর তা ছিল সর্বনি¤œ পর্যায়ে। দাম এত কমেছে যে,  কয়েকবার ডেকেও বিক্রেতা পাওয়া যায় না। কেনা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকে তা ফেলে দিয়েছেন যততত্র। ফেলে দেয়ার চামড়ার দুর্গন্ধে নগরবাসীর ভোগান্তিও হয়েছে। বাধ্য হয়ে সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী গাড়ি আনতে হয়েছে।

কভিডকালে কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য কমেছে অনেকের। চামড়া দেশের এক সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য। গবাদিপশুর খামার, গরু মোটাতাজাকরণ, গোখাদ্য ব্যবসা প্রভৃতিতে জড়িত এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী। কভিডকালে এবারও হাট ছাড়াও সরাসরি খামার থেকে অনলাইনে গরু বিক্রি হবে।

চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও যথাযথ নজরদারি না থাকায় নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হয়নি কখনও। চামড়ার দাম নিয়ে যাতে কারসাজি না হয়, চামড়া যেন ফেলে দিতে না হয়, সে লক্ষ্যে প্রতি ধাপে নজরদারি প্রয়োজন।

চামড়া খাতের উন্নয়নে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন অতিরিক্ত দামে চামড়া বিক্রির সুযোগ নেই, তাই বলে পানির দামে বিক্রিও কাম্য নয়। অন্তত যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করতে হবে। দেশে ন্যায্য দাম পাওয়া না যাওয়ায় ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার, এটি স্বস্তির নয়। এটি স্থায়ী না হয়। প্রতিবারই সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরাই তা মানেন না। ফলে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একশ্রেণির ব্যবসায়ী চামড়া কেনার জন্য ঋণ নিয়ে পাওনাদারের বকেয়া পরিশোধ না করে নতুন ক্রেতা থেকে চামড়া কেনেন। আবার ব্যাংকঋণ পরিশোধেও গড়িমসি করেন। চামড়া খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..