সম্পাদকীয়

চামড়া খাতে প্রণোদনার সুফল নিশ্চিত করুন

চামড়াপণ্য রফতানিতে আরও পাঁচ বছর নগদ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার রাজধানীতে জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এ প্রণোদনার মাধ্যমে যাতে রফতানিতে সুফল পাওয়া যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

দেশের বাজারে কাঁচা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের দামে বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। গত ছয় বছরে কাঁচা চামড়ার দাম ৫০ শতাংশ কমলেও চামড়াজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে চামড়ার দাম কমেছে, বাংলাদেশে কমেছে তার চেয়ে বেশি হারে। গত ঈদুল আজহায় ন্যায্য দাম না পেয়ে লাখ লাখ চামড়া ফেলে দিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। চামড়ার দাম কমার সুফল পাচ্ছেন না দেশীয় ক্রেতারা। আবার সস্তায় কাঁচা চামড়া পাওয়ার পরও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি কমছে। বিষয়টি দুঃখজনক। কাজেই রফতানিতে যতই প্রণোদনা দেওয়া হোক না কেন, ব্যবসায়ীরা সেটির সদ্ব্যবহার না করলে খাতটি এগোবে কীভাবে?

আমাদের সামর্থ্য বেড়েছে, রুচিও বদলেছে। দেশের ১৬ কোটির মানুষের অধিকাংশই চামড়ার জুতো ব্যবহার করেন এখন। অনেকেরই কয়েক জোড়া জুতো রয়েছে। চামড়াজাত পণ্যের স্থানীয় বাজার মোটেও ছোট নয়। এখন পাড়া-মহল্লায় অর্ডার দিয়ে ব্র্যান্ডের জুতোর ৭৫ শতাংশ কম দামে চামড়ার জুতো বানানো যায়। এগুলো টেকসইও। ব্যবসায়ীরা রফতানিতে ব্যর্থ হবেন আবার স্থানীয় বিশাল বাজার উপেক্ষা করবেন, এটা কাম্য নয়। চামড়া কেনার জন্য নেওয়া ব্যাংকঋণও সময়মতো পরিশোধ করেন না তারা। শুধু তা-ই নয়, কাঁচা চামড়া বিক্রেতাদেরও পাওনা পরিশোধ করেন না তারা। তাদের খেয়ালিপনার কারণে পথে বসছেন অনেক মৌসুমি ছোট ব্যবসায়ী।

চামড়াশিল্প নগরীতে কারখানা আছে, এমন জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানিকারকরা রফতানি মূল্যের বিপরীতে পাঁচ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাচ্ছেন। করভারও কমিয়ে দশমিক ছয় শতাংশ হারে উৎসে কর ধরা হয়েছে। চামড়াশিল্পের উন্নয়নে গৃহীত নীতিমালায় নানা ধরনের প্রণোদনার সুযোগ রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি, এমন সুযোগ পেয়েও যারা এর সদ্ব্যবহার করবেন না, তাদের তালিকাও করা উচিত।

প্রতি বছর আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে দামে কারসাজি করেন বলে অভিযোগ। আবার কর্তৃপক্ষকে দিয়েও কম দাম নির্ধারণ করে নেন তারা।

চামড়াশিল্পে বিভিন্ন পর্যায়ে এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী জড়িত। তাদের বেশির ভাগই প্রান্তিক আয়ের মানুষ। ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রের টাকা নিয়ে যা ইচ্ছে করেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এই শ্রমজীবীদের ওপর। প্রণোদনা কতটা দায়িত্বশীল করছে ব্যবসায়ীদের, সেটিরও নজরদারি করতে হবে।

সর্বশেষ..