সম্পাদকীয়

চামড়ার দামে কারসাজি ঠেকাতে পদক্ষেপ নিন

দেশে সারা বছর যত পশু জবাই হয়, তার প্রায় অর্ধেক জবাই হয় ঈদুল আজহায়। দেশীয় চামড়াশিল্পের জন্য বিষয়টি সুখকর হওয়ার কথা থাকলেও অজানা কারণে তা শোচনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কোরবানিদাতা থেকে শুরু করে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার নগণ্য দাম থেকে একেবারে দামহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে চামড়া ফেলে দিতে কিংবা মাটিচাপা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এর পেছনে সিন্ডিকেট বা কারসাজির যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখার দায় ছিল সরকারের। কিন্তু কোনো তদন্ত না করেই সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিল। এ সিদ্ধান্তের পেছনে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো স্তরের অংশীজনেরই সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়নি। এমনকি চামড়া কারা, কীভাবে রফতানি করবে এবং তার লাভ বা লোকসানের খতিয়ান কেমন হবেÑতার কোনো প্রক্ষেপিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। আকস্মিকভাবে চামড়াবাণিজ্যের পতনদশা এবং কোনো তদন্ত ও বিচার-সালিশ ছাড়াই সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার এই সার্বিক ঘটনাপরম্পরা দেশের অর্থনীতি ও জনমনে হতাশা এনে দিয়েছে। পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।
এ সম্পর্কিত একটি মাঠ পর্যায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজ। পাইকার ও ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যকার একটি টানাপড়েন অবশ্য বছর তিনেকের লাগাতার ঘটনা। ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদারদের ৩০০ কোটি বকেয়া টাকার কথা অস্বীকার করে ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশন দাবি করছে এটি প্রান্তিক মানুষকে ঠকানোর জন্য আড়তদারদের একটি চাতুরি। যদি বকেয়ার কারণে আড়তদাররা চামড়া কিনতে ব্যর্থ হয়ে থাকেন, তবে গত তিন বছরে এ নিয়ে ডজনখানিক মামলা কেন দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পন্ন করা হলো না সে বিষয়ে সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন এসে যায়। একই সঙ্গে চামড়ার দাম মাঠ পর্যায়েই পতন ঘটিয়ে পাশের দেশে রফতানি করার ক্ষমতাসীন নেতার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সে অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে আড়তদারদের দুষ্টুচক্রের জাল ভিন্ন করে বাণিজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনে দেশীয় চামড়াশিল্পকে রক্ষার দায় নিতে হবে সরকারকেই। উল্লেখ্য, বাণিজ্যমন্ত্রী এ পরিস্থিতির পেছনে চামড়া ব্যবসায়ী বা আড়তদারদের কারসাজিকেই ইঙ্গিত করেন এবং দাবি করেন, প্রতিবারের মতো এবারও ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে সংকট সমাধানে কাঁচা চামড়া রফতানি পরিকল্পনার হঠাৎ সিদ্ধান্তে দেশীয় শিল্প রক্ষায় কোনো নির্দেশনা আসেনি। সরকারি এ সিদ্ধান্তের পেছনে জনমনে অস্বাভাবিকতার প্রশ্ন আসতে পারে।
তাই সরকার সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন-পরবর্তী রফতানিতে দেশীয় শিল্পের লাভ-লোকসান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত পুনর্পাঠ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

সর্বশেষ..