সম্পাদকীয়

চামড়াশিল্পের উন্নয়নে নিন সময়োপযোগী পদক্ষেপ

প্রতি ঈদুল আজহায় পুরো বছরের প্রায় ৬০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয়। এ সময় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কম থাকে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত চামড়া-সংক্রান্ত দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এগুলো হলো ‘কাঁচা চামড়া কিনতে ৬১০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকারি চার ব্যাংক’ এবং ‘চামড়ার দাম বাড়ায়নি সরকার’। প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য বারের মতো এবারও কোরবানির ঈদে জবাই করা পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের নগদ টাকা ঋণ দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক। এবার ৪০-৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬১০ কোটি টাকা ঋণ দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জনতা, রূপালী, অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংক। আর অন্য প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। গত বছরও একই দামেই পশুর চামড়া কেনা হয়।
চামড়া কেনার জন্য প্রতি বছরই ঋণ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায় পূর্ববর্তী বছরের ঋণ পরিশোধকারীরা। এ বছর সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে চামড়াশিল্পে অর্থের সংকট চলছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। তাই নতুন করে অনেকেই ব্যাংকঋণ পাবেন না। এটি চামড়াশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা মনে করি, সক্ষমতা বিবেচনা করে ট্যানারি ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, কয়েক বছর ধরে কেবল চামড়া খাতে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তাই কাঁচা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে সেভাবেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
আবার চামড়ার দাম না বাড়ানোও যুক্তিযুক্ত নয়। চামড়ার দাম বাড়লে এর প্রধান সুবিধাভোগী হয় সমাজের দুস্থ, অসহায় মানুষ। চামড়া বিক্রির অর্থ কোরবানিদাতারা দুস্থ-এতিমদের দান করেন। তবে বেশি দামে চামড়া কিনে ট্যানারি মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হোনÑসেটাও আমরা চাই না।
চামড়ার দাম কম হলে কেবল গরিবরা বঞ্চিত হন, তা নয়। ফতুর হচ্ছেন মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। সুফল পান আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা। প্রতি বছর আড়তদার-ট্যানারি মালিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে দামে কারসাজি করেন বলে অভিযোগ। আবার কর্তৃপক্ষকে দিয়েও কম দাম নির্ধারণ করে নেন তারা। বলা যায়, এবারও তা হয়েছে।
ক’বছর ধরেই দেশে চামড়ার দাম কমছে। চামড়ার দাম কমার সুফল ব্যবসায়ীরা কাজে লাগিয়েছে, তাও নয়। সব বিবেচনা করে সময়ের সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য বিধান করা যেমন দরকার, তেমনই ব্যবসায়ীদেরও ঋণ পরিশোধে আন্তরিক হতে হবে।

সর্বশেষ..