প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চার কার্যদিবসে দর বেড়েছে ৪.৬০ টাকা:কারণ জানা নেই অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের

নিজস্ব প্রতিবেদক: অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর চার কার্যদিবসে বেড়েছে চার টাকা ৬০ পয়সা। আর এ দর বাড়ার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। এ কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এমনটিই জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই)।

সূত্রমতে, অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস পাঠায়। কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানায়।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত মাসের ২৮ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বেড়েছে, যা গতকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৯০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে চার টাকা ৩০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

উল্লেখ্য, ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটি ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে তিন দশমিক ৪৫ শতাংশ বা ৫০ পয়াসা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৫ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৪ টাকা ৯০ পয়সা। দিনজুড়ে ছয় লাখ ৭৯ হাজার ৮১৫টি শেয়ার মোট ৫২৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর আট টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৫৫ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৬৪ পয়সা। ওই বছর কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল দুই কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

২০১৫ সালে আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের চার শতাংশ নগদ ও ছয় শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল, যা আগের বছরের সমান। ওই সময় ইপিএস ছিল এক টাকা ২২ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছিল ২৯ টাকা ১৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৫৬ পয়সা ও ১১ টাকা ১৬ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ছয় কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১২ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৮ পয়সা, যা এর আগের বছরের একই সময় ইপিএস ছিল ৪৭ পয়সা। অন্যদিকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির এনএভি ১০ টাকা ৪৯ পয়সা দাঁড়িয়েছে, যা একই বছরের ৩০ জনু পর্যন্ত ছিল ১০ টাকা ৮৬ পয়সা। এনএভি ১৭ পয়সা কমেছে।

কোম্পানির মোট পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে ৪১ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে চার দশমিক ১০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৫৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ শেয়ার।