প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চার দিনে বাজার মূলধন নেই ৪০০০ কোটি টাকা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দীর্ঘদিন ইতিবাচক ধারায় থাকার পর হঠাৎ পুঁজিবাজারে পতন দেখা দিয়েছে। সূচকের পাশাপাশি একযোগে হ্রাস পেতে শুরু করেছে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর। এর জের ধরে হ্রাস পেতে শুরু করেছে বাজার মূলধনও। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসই হ্রাস পেতে দেখা গেছে সূচক ও বাজার মূলধন। ফলে আবার বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

গত এক সপ্তাহের পুঁজিবাজার চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, প্রথম দিন ছাড়া বাকি চার কার্যদিবস সূচকের পতন হয়েছে। পাশাপাশি কমে গেছে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর। একইভাবে উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়েছে বাজার মূলধন। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজার মূলধন ছিল পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাজার মূলধন স্থির হয়েছে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ চার দিনে চার হাজার কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে বাজার মূলধন। এ সময় ডিএসইর প্রধান সূচক হ্রাস পেয়েছে ১১৪ পয়েন্ট। চার দিনের ব্যবধানে সূচক নেমে এসেছে সাত হাজার ৩৬৭ থেকে সাত হাজার ২৪৩ পয়েন্টে।

এদিকে টানা চার দিনের দর পতনে কিছুটা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজারে এ ধারা অব্যাহত থাকবে কি নাÑতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন তারা। জানতে চাইলে মো. সালাউদ্দীন নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘পুঁজিবাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমি শঙ্কিত। ২০১০ সালেও বাজার পরিস্থিতি এমন হয়েছিল। হঠাৎ করে বাজার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর সবাই ভেবেছিল পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। বাজার সংশ্লিষ্টরাও সে রকম আশার কথা শুনিয়েছিলেন। কিন্তু সে পরিস্থিতি আর বদলায়নি। পরে এর মাশুল দিতে হয়েছে সবাইকে।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, দীর্ঘদিন বাজার ভালো থাকার কারণে এখন মুনাফা তুলছেন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী। এ কারণে বাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হয়েছে, যার জের ধরে সূচক নি¤œমুখী রয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, আমার জানামতে, বিএসইসি মার্কেট পরিস্থিতি ভালো রাখার জন্য কাজ করছে, যাতে কোনো ধরনের কারসাজি না হয় সেদিকে নজর রাখছে। তবে এর মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সর্বোপরি পুঁজি তার, তাই এর নিরাপত্তা সবার আগে তাকেই ভাবতে হবে। তাদের কোনো কারণে প্যানিক হওয়া চলবে না। আমাদের দেশের বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী সহজে প্যানিক হয়ে যান।

একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পুঁজিবাজার ঠিক করতে হলে সবার আগে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উচিত সঠিক দায়িত্ব পালন করা। সব দেশে তা-ই হয়। বাজারের যে কোনো বৈরী পরিবেশে তারা সাপোর্ট দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে হয় উল্টো। বাজারে তাদের আচরণ ডে-ট্রেডারদের মতো। যে কারণে বাজারে মাঝে মাঝে ছন্দপতন হয়।