দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চার মাসে আয়কর ফাঁকি উদ্ঘাটন ২৮৪ কোটি টাকা

অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সেলের প্রতিবেদন

রহমত রহমান: দেশে প্রতি বছর কী পরিমাণ আয়কর ফাঁকি হয়, সেটির সঠিক তথ্য নেই। তবে বিশ্বের যে কয়টি দেশ কর ফাঁকি দেয়, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, করদাতারা প্রদর্শিত আয়ের ৭০ থেকে ৮০ ভাগই গোপন করার মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন। দেশের ২৯টি কর অঞ্চল, এলটিইউ ও জরিপ অঞ্চলে চার মাসে প্রায় ২৮৪ কোটি টাকার আয়কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

কর অঞ্চলগুলোর ‘গোয়েন্দা ও তদন্ত সেল’ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে। সম্প্রতি এনবিআরের অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন শাখা থেকে এনবিআর চেয়ারম্যানকে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আয়কর ফাঁকি উদ্ঘাটনে প্রতিটি কর অঞ্চলে ‘গোয়েন্দা ও তদন্ত সেল’ গঠনে ২০১৬ সালে এনবিআর একটি নির্দেশনা জারি করে। সে অনুযায়ী দেশের সব কর অঞ্চলে এ সেল গঠন করা হয়। এ সেল আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত, রিটার্ন ও নথি যাচাই করে ফাঁকি উদ্ঘাটন ও কর আদায় করে আসছে। তবে জনবল ও কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে কর অঞ্চলগুলো সব ফাঁকি উদ্ঘাটন করতে পারে না। সব কর অঞ্চলে ফাঁকি উদ্ঘাটন করে সম্প্রতি এনবিআরে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯টি কর অঞ্চল, বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-আয়কর) ও কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলের গোয়েন্দা ও তদন্ত সেল ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮৪ কোটি ৭৫ লাখ চার হাজার ১৯৬ টাকার আয়কর ফাঁকি উদ্ঘাটন ও তিন হাজার ৫৫৯টি মামলা করেছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৬১টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আদায় হয়েছে ৩১ কোটি ৬০ লাখ ৫২ হাজার ৩৬৯ টাকা। আর অনাদায়ী রয়েছে ২৫৩ কোটি ১৪ লাখ ৫১ হাজার ৮২৭ টাকা।

মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত অভিযোগ ও তথ্য জমা পড়ে তিন হাজার ৮৩৮টি। এর মধ্যে তদন্তের জন্য প্রাথমিকভাবে রয়েছে তিন হাজার ৪৮১টি। তদন্ত করে তিন হাজার ৯৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের করফাঁকি চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে এক হাজার ৫৬৯টি মামলা করা হয়। ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার ১২৬ টাকার কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়, যার মধ্যে আদায় হয় ৩০ কোটি ৫০ লাখ ১৬ হাজার ৮২ টাকা। আর অনাদায়ী রয়েছে ২৪৪ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ৪৪ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট চার হাজার ১৮৪টি তথ্য ও অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে চার হাজার ৫০টি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করে তদন্ত করে এ ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। শুধু ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য ও অভিযোগ জমা পড়ে ১৮০টি। এর মধ্যে ৪১০টি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। যাচাই শেষে ৩০৩টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কর ফাঁকি চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ১০৩টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই কোটি ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৩ টাকার কর ফাঁকির মামলা করা হয়, যার মধ্যে আদায় হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। অনাদায়ী থাকে দুই কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৩ টাকা।

নভেম্বর মাসে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য ও অভিযোগ জমা পড়ে ৬৯টি। এর মধ্যে ৩৯টি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। যাচাই শেষে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কর ফাঁকি চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ৬৫টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৩০ টাকার কর ফাঁকির মামলা করা হয়, যার মধ্যে আদায় হয় প্রায় সাত লাখ ৩৮ হাজার টাকা। অনাদায়ী থাকে তিন কোটি ৪০ লাখ চার হাজার ৫৩৯ টাকা। অক্টোবর মাসে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য ও অভিযোগ জমা পড়ে ২৭টি। এর মধ্যে ১৫টি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। যাচাই শেষে ১৪টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কর ফাঁকি চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৮১ টাকার কর ফাঁকির মামলা করা হয়, যার মধ্যে আদায় হয় প্রায় সাত লাখ ১৮ হাজার টাকা। অনাদায়ী থাকে ১০ লাখ ৭২ হাজার ৮৩২ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য ও অভিযোগ জমা পড়ে ৭০টি। এর মধ্যে ১০৫টি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। যাচাই শেষে ১০৫টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কর ফাঁকি চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ১৬৬ টাকার কর ফাঁকির মামলা করা হয়, যার মধ্যে আদায় হয় প্রায় ৭৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। অনাদায়ী থাকে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৯ টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..