দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

চার মাসে ১৩ কোম্পানির আইপিও আবেদন বাতিল

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত সময়ে সবচেয়ে বেশি আইপিও আবেদন অনুমোদন দিয়েছেন। এর পাশাপাশি দ্রুত সময়ে সবচেয়ে বেশি কোম্পানির আইপিও আবেদন বাতিলও করেছে কমিশন, যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। কমিশনের এই ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, আর্থিক হিসাব, আয়-ব্যয় ও সম্পদের মিথ্যা বা সন্দেহজনক তথ্য দিয়ে আবেদন করার কারণে এসব কোম্পানির আইপিও বাতিল করা হয়েছে। বিএসইসির শীর্ষ পদে রদবদলের আগে আইপিও আবেদন জমা ছিল ৩২টি। এর মধ্য থেকে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের আইপিও আবেদন বাতিল করে বিএসইসি।

আইপিও বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছে গার্ডিয়ানা ওয়্যারস, বিডি পেইন্টস, বোনিতো এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ, বেকা গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল, এসএফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ, হজ্জ ফাইন্যান্স, থ্রি এঙ্গেল মেরিনার্স, ইনফিনিটি টেকনোলজি ইন্টারন্যাশনাল, বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস, জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং, আল-ফারুক ব্যাগস, ডেল্টা হসপিটাল ও নিয়ালকো অ্যালোস।

বিএসইসি সূত্র জানায়, যেসব কোম্পানির আইপিও আবেদন বাতিল করা হয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই নিয়ম মেনে আবারও আবেদন করতে পারবে। তবে তখনও তাদের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই করা হবে।

আইন অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্যসংবলিত কোনো আইপিও প্রসপেক্টাস অনুমোদনের জন্য কমিশনে জমা দিতে পারে না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু যেসব কোম্পানির আইপিও বাতিল হয়েছে, সেগুলোর সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্নিষ্ট ইস্যু ম্যানেজার প্রতিষ্ঠানগুলো সব তথ্য সঠিক বলে ছাড়পত্র দিয়েছিল। এমনকি অডিটর প্রতিষ্ঠানগুলোও আর্থিক প্রতিবেদনের অসংগতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু বিএসইসি এসব তথ্যে গড়মিল খুঁজে পায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এসব আবেদন বাতিল করা হয়। আগামীতে এ ধরনের গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইস্যু ম্যানেজার এবং অডিট ফার্মগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানা গেছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে কমিশনকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। চাইলে ইস্যু ম্যানেজারেরাই এসব আবেদন বাতিল করতে পারতেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে একজন মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি দুই বছরে প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংককে একটি করে আইপিও আবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে কোনো কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক হয়তো জেনে-বুঝেই এমন কাজ করছে। এই বাধ্যবাধকতা শিথিল করলে এমনিতেই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর এই প্রবণতা কমে যাবে।

এদিকে বিএসইসি কর্মকর্তারা জানান, বেশিরভাগ কোম্পানির আইপিও আবেদন যাচাইয়ের পর দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিগুলো আয়-ব্যয় ও সম্পদের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে বড় ধরনের ফাঁকি রয়েছে। একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো মিল নেই। যারা এমন করেছে তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। এসব কোম্পানি বাজারে এলে বিনিয়োগকারীদের লাভের চেয়ে ক্ষতির শঙ্কাই বেশি। বিএসইসি চেষ্টা করছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কেউ যেন আর আর ঠকাতে না পারে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আইপিওর অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে আমরা খুবই সচেতন। আমাদের কাছে যেসব আবেদন আসছে, তা আমরা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখছি। সমস্যা মনে হলে সেসব কোম্পানির আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। এটা করা হচ্ছে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থের কথা চিন্তা করে। পক্ষান্তরে ভালো কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিতেও আমরা সময় ক্ষেপণ করছি না।’

একই প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘অনেক কোম্পানিই পুঁজিবাজারে আসে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য। বাজার থেকে টাকা নিয়ে তারা আর কোম্পানির উন্নয়নের কথা ভাবে না। মূলত এ ধরনের কোম্পানিই ভুল তথ্য প্রদান করে বলে মনে করি। এ ক্ষেত্রে বিএসইসি যে পদপেক্ষপ নিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আশা করি তাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..