প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

চালু হচ্ছে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থগিত থাকার পর আবারও চালু হচ্ছে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের মামলা। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ শেষে ১৯৯৬ সালে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলা আবার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ মামলার চার আসামির মধ্যে দুজনের বিচারকাজ এখন চলবে। অন্য দুই আসামির বিচারকাজে এখনও স্থগিতাদেশ রয়েছে। ১৮ জানুয়ারি সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। অপর মামলা মার্ক শেয়ার কেলেঙ্কারির আসামিরা অনুপস্থিত থাকায় চার্জ গঠনের সময় বাড়ানো হয়েছে। এদিকে সালমান এফ রহমানের দুটি মামলা বাতিল (কোয়াশড) করা হয়েছে।

গত বছরের ১৭ এপ্রিল প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলার বিচারকাজে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন উচ্চ আদালত। তবে স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার আবারও চালু হচ্ছে মামলার কার্যক্রম। প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ মামলার আসামিরা হলেন এমএ রউফ চৌধুরী, সাঈদ এইচ চৌধুরী, প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান ও পরিচালক অনু জাগীরদার।  গত রোববার এ মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য আসামি এমএ রউফ চৌধুরীর আইনজীবী শেখ বাহারুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম খান ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। আরেক আসামি সাঈদ এইচ চৌধুরীর আইনজীবী বোরহান উদ্দিন সমর্থন করেন। অপর দুই আসামি মশিউর রহমান ও আনু জাগীরদার মামলার কার্যক্রমে বর্ধিত স্থগিতাদেশের কপি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন। এ স্থগিতাদেশ ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২ মে পর্যন্ত। ১৮ জানুয়ারি প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের মামলায় বিচারকাজ শুরু হবে।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের নামে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করার অভিযোগ ওঠে। মিতা টেক্সটাইল, প্রাইম টেক্সটাইল, বাটা সুজ ও বেক্সিমকো ফার্মার ১২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লেনদেন করে। এতে শুধু ফরেন ডেলিভারি ভার্সেস পেমেন্টের (ডিভিপি) মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে। এ সময় ১ নম্বর আসামি প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ ওই সময়ে ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩টি শেয়ার বিক্রি করে, যার মূল্য ছিল ৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। স্টক এক্সচেঞ্জের রেকর্ড অনুযায়ী আসামিরা এসিআই লিমিটেডের এক লাখ ৬৪ হাজার ৮১৯টি শেয়ার বিক্রি করেন। অথচ ব্যাংক রেকর্ডে দেখা যায়, বিক্রির পরিমাণ দুই লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৮টি। যার মধ্যে ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ারের পরিমাণ আট কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ডিভিপি ছাড়াও আসামিরা স্থানীয়ভাবেও শেয়ারের অন্যতম ক্রেতা-বিক্রেতা। তারা ওই সময়ে বেক্সিমকো ফার্মার ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫টি শেয়ার বিক্রি করেন। এর মধ্যে ডিভিপির মাধ্যমে ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭০০টি শেয়ার বিক্রি করেন। আর এখানেও অনিষ্পত্তি হওয়া শেয়ার এক লাখ এক হাজার ৫০০টি। এসব ফরেন ডিভিপির মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠানটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ইন্দোসুয়েজ ব্যাংক ব্যবহার করতো।

আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি, অপকার ও অনিষ্ট করেছে আখ্যা দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ-১৯৬৯’র ২১ ধারায় তদন্ত কমিটি গঠন করে। ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধ্যাদেশের ১৭ ধারার ই(২) বিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে মার্ক বাংলাদেশ শিল্প অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং  কোম্পানির শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার বিচারে চার্জ গঠনের দিন আসামিরা অনুপস্থিত থাকায় চার্জ গঠনের সময় বাড়ানো হয়েছে। গতকাল সোমবার চার্জ গঠনের সময় নির্ধারিত থাকলেও কোনো আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন না। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার্জ গঠনের সময় বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আকবর আলী শেখ এ সময় বৃদ্ধির আদেশ দেন।

অন্যদিকে ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় সালমান এফ রহমানের নামে করা দুই মামলা  কোয়াশড-এর আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২ জানুয়ারি মামলা বাতিল (কোয়াশড) করতে নির্দেশনা পেয়েছে পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

এ প্রসঙ্গে বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মাসুদ রানা খান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘উচ্চ আদালত সালমান এফ রহমানের দুই মামলায় কার্যক্রম কোয়াশড করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশের পর মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নেই। আপিল বিভাগে আবেদন করলে এ মামলা চালু হতে পারে।’

১৯৯৬ সালে শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা ২০১৫ সালে শেয়ারবাজারবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হলেও হাইকোর্টের আদেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল।