চালের ঊর্ধ্বমূল্যে শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি

পাঠকের চিঠি

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ব্যাপকভাবে কভিডের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত, যার প্রভাবে জনজীবন হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত। পাল্টে গেছে সাধারণ মানুষের জীবন যাপনের গতিধারা। কভিডের প্রাদুর্ভাবে এই ভয়াবহ অবস্থায় সমাজের মানুষ যখন আতঙ্কিত ও বেশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে সময় কাটাচ্ছে, তার মধ্যেও মাথাচাড়া দিয়ে ব্যাপক আকার ধারণ করছে নানা ধরনের সমস্যা, যার প্রভাব পড়ছে সমাজের খেটে খাওয়া ও মেহনতি মানুষের ওপর। একের পর এক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের।

কভিডকালে সবারই আয় কমেছে। লোকসানের ধাক্কা সামলাতে না পেরে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সীমিত ও নি¤œ-আয়ের মানুষ একপ্রকার দিশাহারা কখনও পেঁয়াজ, কখনও আলু, কখনও আবার সবজির দাম নিয়ে। এখন আবার আমন ধানের ভরা মৌসুমেও বেড়েছে চালের দাম। বলা হয়ে থাকে, ক্ষুধা থাকলে নুন দিয়েও ভাত খাওয়া যায়। এখন সেই চালের দামই যদি বেড়ে যায়, তাহলে সীমিত আয়ের শ্রমজীবী মানুষ কী দুর্ভোগে পড়বে, তা সহজেই বোঝা যায়।

বাজারে হঠাৎ করেই যখন দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়, স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষ। কারণ দ্রব্যের দাম বাড়লেও বাড়ে না তাদের আয়-রোজগার। ফলে আগের সেই নির্দিষ্ট আয় থেকেই তাদের কেনাকাটা করতে হয়, যে কারণে চরম বিপাকে পড়তে হয়।

সাধারণত কোনো দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায় তখনই যখন বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় দ্রব্যমূল্যের জোগান কম থাকে। কিন্তু আমন ধানের এই ভরা মৌসুমে বাজারে ধানের আধিক্য থাকায় কোনোভাবেই চালের সংকট হওয়ার কথা নয়। এমন তো না যে ধান এখনও বাজারে আসেনিÑবাজারে বিপুল পরিমাণ ধান বিরাজমান। ফলে চালেরও সংকট হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। তাহলে বাজারে যখন চালের সংকট নেই, তাহলে কেন চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে?

চালের দামের ঊর্ধ্বগতি সম্পর্কে কয়েক দিন ধরে দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোয় বেশ দৃষ্টিকাড়া প্রতিবেদন আসছে। প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৬ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৮-৬২ টাকা। এর আগের সপ্তাহে অর্থাৎ দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৫৪-৬০ টাকা। আর প্রতি কেজি মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৮ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৫২ টাকা। গরিবের চাল বলে খ্যাত মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৬-৫০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৪২-৪৬ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত এক সপ্তাহে মিনিকেট ও নাজিরশাইল বা সরু চালের দাম বেড়েছে পাঁচ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের দাম বেড়েছে দশমিক ৯৭ শতাংশ। আর মোটা বা স্বর্ণা ও চায়না ইরি চালের দাম বেড়েছে এক দশমিক ১০ শতাংশ।

সাধারণত চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন বড় বড় মিল মালিকেরা। এর মধ্যে কিছু কুচক্রী আছে যারা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টি করে এবং সংকট দেখিয়ে বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়। আর যার জাঁতাকলে পড়ে নিষ্পেষিত হয় স্বল্প আয়ের মানুষ। জনসাধারণের কথা চিন্তা করে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে চালের বাজার খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। বাজারের চালের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও বেশি তদারকি করতে হবে অদৃশ্য কালো হাতকে রুখতে হবে।

ইমরান হুসাইন

শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


সর্বশেষ..