Print Date & Time : 11 May 2021 Tuesday 1:27 pm

চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আশু পদক্ষেপ কাম্য

প্রকাশ: February 10, 2021 সময়- 12:37 am

বাংলাদেশের খাদ্য তালিকায় প্রধান পণ্য চাল। বর্তমানে চাহিদার প্রায় পুরোটাই দেশে উৎপাদন হচ্ছে। আবার কোনো কোনো বছর চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন হওয়ারও রেকর্ডের কথা জানিয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। কিন্তু সেই অনাকাক্সিক্ষত বিষয়ই ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের উচিত তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেয়া।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘বেড়েই চলেছে চালের দাম’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বাজারে যাতে চালের সংকট দেখা না দেয় সে জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পণ্যটি আমদানিও করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এমনটি কি কারণে ঘটছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির যে হিসাব প্রস্তুত করে, সেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতির যে চিত্র দেখানো হয়, তার বড় অংশজুড়েই থাকে চালের দাম। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, খাদ্যপণ্যের মধ্যে চালের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তাই এ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যটি নিয়ে যাতে কোনো অসাধু চক্র কারসাজি করার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা একান্ত আবশ্যক।

বাজার পর্যবেক্ষণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী অবকাঠামো ও সেট-আপ রয়েছে। সংস্থাটির উচিত জনস্বার্থে তাদের সক্ষমতা পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় কাজে লাগানো। এর আগে নানা সময়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। ২০১৯ সালে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজির ঘটনা সবারই মনে থাকার কথা। ওই সময় কারসারি মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিমভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়তি সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। এতে রাতারাতি পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর পণ্যদির দাম কীভাবে প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হচ্ছিল, তা ভোক্তা মাত্রেরই স্মরণ থাকার কথা। এভাবে নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ প্রায়ই ভোগ্যপণ্যের ব্যবসার ক্ষেত্রে সংঘটিত হতে দেখা যায়।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, বড় করপোরেটরা চাল মজুদ করে রেখেছেন বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। যদিও বড় করপোরেটরা কী পরিমাণ চাল মজুদ করে রেখেছেন, সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে যদি অস্বাভাবিক মজুদ থেকে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী সে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বাড়লে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নানা গোষ্ঠী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে থাকেন। যেমন সাধারণ ব্যবসায়ীরা বড় করপোরেট, ফড়িয়া বা মিল মালিকদের ওপর দায় চাপান। অন্যরাও একইভাবে দায় এড়িয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে সত্য উদ্ঘাটন হওয়া জরুরি বলে মনে করি। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, সরকারের দায়িত্বই হচ্ছে জনস্বার্থ রক্ষা করা। সুতরাং জনস্বার্থ রক্ষার্থে সরকারের উচিত চালের দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়া।