শেষ পাতা

চালের দাম বাড়ায় সরকার খুশি: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চালের দাম কেজিতে চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। চালের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকার খুশি বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে কৃষিতত্ত্ব সমিতির ১৮তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চালের উৎপাদন বেড়েছে। আমরা চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ। চালের দাম বাড়াতে আমরা খুশি। গত আট মাস ধরে চাচ্ছি চালের দাম বাড়ুক। চালের দাম না বাড়লে চাষিরা উৎপাদন খরচ কীভাবে তুলবেন? আমাদের ট্রাক যায় প্রতিদিন। এক ছটাক চাল বিক্রি করতে পারে না। ৩০ টাকা কেজির চাল কেউ নেয় না। ডিলারদের চাপ দেওয়া হচ্ছে মোটা চাল তোলার জন্য, কিন্তু তারা তুলছে না। মোটা চাল খারাপ কিছু না। মোটা চাল খাবে না কেন মানুষ! মোটা চালের দাম একটি টাকাও বাড়েনি। তারপরও মিডিয়া বলছে চালের দাম বেড়েছে।’

বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদের সমালোচনা করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত আট মাস মিডিয়ায় লেখালেখি হচ্ছে কৃষকরা চালের দাম পাচ্ছেন না। পাইকাররা চালের দাম নিয়ে যাচ্ছে। সরকার কিছু করছে না। সুশীল সমাজ প্রচণ্ডভাবে আমাদের সমালোচনা করে আসছিল। নানাভাবে বলেছি, আমরা চেষ্টা করছি কৃষককে ন্যায্যমূল্য দেওয়ার। কিন্তু পারছি না। চাষিরা চাষাবাদ করেন, কঠোর পরিশ্রম করেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা কাজ করেন। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তারা কাজ করেন। রক্ত পানি করে সোনালি ফসল ফলান তারা। আর সেই কৃষক ধানের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। এ জন্য আমরা চিন্তিত ছিলাম। নানা রকম কর্ম-পদক্ষেপ নিয়েছি। পলিসি লেভেলে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আট মাস ধরে মিডিয়া আমাদের সমালোচনা করেছে। কয়েকদিন আগে চালের দাম চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। সংবাদপত্রে বেশকিছু নিউজ হয়েছে সরকারকে বিব্রত করে। সে প্রতিবেদনগুলোয় বলা হয়েছিল, পেঁয়াজের মতো দাম বাড়ছে চালের।’

কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন সফলতার কথা তুলে ধরে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘আমাদের জমি বাড়ছে না, ক্রমান্বয়ে কমছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এক জমিতেই বেশি ফসল উৎপাদন করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা অনেক সফল হয়েছি। আমি দেখেছি গোবিন্দগঞ্জ, রংপুর, ঈশ্বরদীতে চাষিরা একই জমিতে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করেন। প্রথমে মাষকলাই, এরপর আলু, রসুন, পেঁয়াজ, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেন। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। এদেশের শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামে থাকে। গ্রামবাসীদের মূল জীবিকা কৃষি। একথা শুধু উপলব্ধি করে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষকরা যখন ধান বিক্রি করতে পারছিলেন না, কৃষকের দুঃখ-কষ্টের কথা আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নীরবে শুনতেন কৃষকদের দুঃখ-কষ্টের কথা। শুনে তিনি ব্যথিত হতেন, কষ্ট পেতেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সারা জীবন দেখলাম হাড্ডিসার মানুষ। খাবার পায় না। পাণ্ডুর চেহারা। ঘর নাই, চুলা নাই। সে দেশে আজ ধান উদ্বৃত্ত রয়েছে। আবার ধান বিক্রি করা যায় না। এই বিড়ম্বনা আর ভালো লাগে না।’

‘শুধু কৃষি নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে বিপ্লব হয়েছে’Ñমন্তব্য করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব হয়েছে, এটা অসাধারণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ পদ্মা সেতু, আইসিটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। সারা পৃথিবীতে নন্দিত হচ্ছে, প্রশংসিত হচ্ছে বাংলাদেশ। সারা পৃথিবীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আইকন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করছেন। এটাই আমাদের বিরাট অর্জন। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হওয়ার ভিত্তি সৃষ্টি করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়াইস কবির ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি ড. ওমর আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..